চট্টগ্রাম বিভাগ

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ: কুমিল্লায় আন্দোলনে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ছাত্রদল নেতা রায়হান উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লা অঞ্চলে নিজের সম্পৃক্ততা, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সহযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী (বৃহত্তর কুমিল্লা)  ছাত্রদল নেতা রায়হান উদ্দিন।রায়হান উদ্দিন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পদে রয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন এবং পরে কুমিল্লায় আন্দোলনের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখেন।

রায়হানের দাবি, ১৮ জুলাই কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানো হয়। তিনি আহত হলেও হাসপাতাল না গিয়ে আন্দোলনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তার ভাষ্য, প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর কর্মসূচি সফল হয়।

তিনি আরও জানান, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করা হতো। ইন্টারনেট বন্ধ থাকাকালে তারা ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেন।

২৯ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন স্থানে হামলার(গুলাগুলি) খবর পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। একইভাবে ২ ও ৩ আগস্ট কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রায়হান বলেন, ২আগস্ট কুমিল্লা ঝাউতলা ছাতা মসজিদ জুমার নামাজ শেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যুবলীগ সহ আওয়ামিলীগের বাধা অতিক্রম করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন- মিছিলটি শাসনগাছা পর্যন্ত গিয়ে ইউট্রান নিয়ে ফ্লাইওভারের মাথায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে রায়হান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন, পরের দিন ৩ আগস্ট পুলিশ লাইন গোলচত্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি ও অন্যান্য আন্দোলনকারী নিরাপদ আশ্রয় নেন। এ সময় এক নারী তাদের নিজ বাসায় আশ্রয় ও সহযোগিতা করেন বলে তিনি স্মরণ করেন।

৪ আগস্ট কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ‘এক দফা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। তার দাবি, সেখানে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। পরে আলেখারচর এলাকায় সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রায়হান লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং ভিক্টোরিয়া’র রায়হানের স্লোগানের মাধ্যমে সেদিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নানা বাধা অতিক্রম করে তিনি ঢাকায় পৌঁছান বলে জানান। তার ভাষ্য, যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলাগুলি হয় নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি আহত হন। পরে সরকারের পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজয় উদযাপন করেন।

স্মৃতিচারণে রায়হান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কুমিল্লার আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়; বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সম্মিলিত অংশগ্রহণেই তা বেগবান হয়েছিল।

শেষে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button