
বন্ধু রূপে ভয়ংকর প্রতারণা কারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার। গত (১৮ জুলাই-২৬ ইং) বন্ধুত্বের সরলতার সুযোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার বাসিন্ধা মো: গোলাম মোর্শেদকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি করেন তারই বন্ধু স্বপন গংরা। ভুক্তভোগী গোলাম মোর্শেদকে তার বন্ধু স্বপন কৌশলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছেলের সাথে ব্যবসার ব্যাপারে বসাবে বলে ঢাকায় নিয়ে আসেন। অভিযুক্তকারীরা রাজধানী ঢাকার পল্টন থানার উল্টা পাশে চায়না টাওয়ার মার্কেট থেকে গোলাম মোর্শেদকে তার বন্ধু স্বপনের নির্দেশে মুরাদ-মাসুদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী টিম কৌশলে অপহরণ করে ধানমন্ডি একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়।অপহরণকারীরা বলে অর্থমন্ত্রীর ছেলে সে হোটেল অবস্থান করছে।
গোলাম মোরশেদও কোন প্রকার সন্দেহ ছাড়াই বন্ধু স্বপনের দেখানো মতো পান্থপথে অবস্থিত হোটেল ড্রিম হেভেনে হোটেলের লিফট এর ৯ তলার একটি কক্ষে যান। সেখানে আরো কিছু অপরিচিত যুবককে দেখতে পান। ততক্ষণ গোলাম মোর্শেদ বুঝতে পেরেছেন সে একটি ট্র্যাপে পড়েছে। অপহরণকারীরা গোলাম মোর্শেদকে ব্যাপক শারীরিক অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা ৫ কোটি দাবি করেন। টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করেন।
অপহরণকারীরা দাম্ভিক্ষ সুরে বলে এই হোটেলে আমরা এতজন মানুষ আসা-যাওয়া করছি হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই বলে না, তোকে যদি এখানে মেরে বস্তা ভরে ফেলে দিয়ে আসি, আমাদের কিছুই হবে না। এক প্রকার ভয়ে গোলাম মোর্শেদ তার মামা আনোয়ার হোসেনকে কৌশলে মোবাইলের মাধ্যমে হোটেলে ডেকে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে তার মামা হোটেলে আসলে তাকেওঅপহরণকারীরা জিম্মি করে।তাদের দুজনকে ব্যাপক মারধর করেন অপরাধীরা। অপহরণকারীরা গোলাম মোর্শেদের এটিএম কার্ড থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। ঘটনা শুরুতে দাবেকিত ৫ কোটি টাকা থেকে ৬ লক্ষ টাকা দেন দরবারে জীবন ভিক্ষা দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। ভুক্তভোগী মোর্শেদ ও তার মামা এত অল্প সময় এত টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবে বললে স্বপনের পরামর্শে অপহরণকারীরা মোর্শেদের গাড়ি তাদের জিম্বায় দিতে বলেন। তাদের ক্রমাগত মারধোর সহ্য করতে না পেরে গোলাম মোর্শেদ তার গাড়ি নোয়াখালী থেকে মোবাইলের ড্রাইভার কে বলে এনে দেয় ।গাড়ি পাবার পর অপহরণকারীরা কৌশলে গোলাম মোর্শেদের কাছ থেকে একটি চেক ও একটি ইস্ট্যাম তৈরি করে নেয় ১০ লক্ষ টাকার পাবে বলে। এবং বলেন যদি নির্দিষ্ট সময়ে টাকা দিতে না পারো তবে তোমার গাড়ি আর কোনদিনও পাবে না। মোর্শেদ নিজের জীবন এই বন্ধি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য সেই শর্ত রাজি হয়। সে তাদের অবৈধ বানানো চেক ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই দিয়ে কোনমতে জানে বাঁচে এবং ১৯ জুলাই বেলা ১ টায় তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। গোলাম মোর্শেদকে অপহরণকারীরা বলে, যদি কোন পুলিশের কাছে বা অন্য কোন সংস্থার কাছে যাও, তাহলে তোমাকে জানে মেরে ফেলবো। সোজা গ্রামের বাড়ি চলে যাও।গোলাম মোর্শেদও অপরাধকারী থেকে মুক্ত হয়ে নোয়াখালী তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং মেডিকেলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপ করে ঢাকায় এসে প্রথম পল্টন থানা ও পরবর্তীতে শেরেবাংলা থানা ধর্না দেন। কোন থানা তাকে সহযোগিতা না করায় গোলাম মোর্শেদ গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি কার্যালয় যান এবং তার সমগ্র অপহরণের ঘটনা খুলে বলেন। ডিবি সদস্যরা তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্ত করে দেখেন। ডিবি সদস্যরা তদন্ত করে দেখেন গোলাম মোর্শেদের গাড়ির জিপিআরএস সন্ত্রাসী চক্রটি ১৯শে জুলাই তারিখে তাদের কবজায় থাকাকালীন অবস্থায় খুলে ফেলেন যেন গাড়ি লোকেশন ট্র্যাক করতে না পারে। পরবর্তী ডিবি সদস্যদের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধকারীর দুই চক্রকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয় নিয়ে জান। অপহরণকারীদের কাছে থাকা গাড়িটি উদ্ধার করেন।এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানা একটি মামলা হয়েছে। এবং পুলিশের অভিযানও অব্যাহতে আছে।



