
জাল কাগজপত্রে বার্মিজ নাগরিক সেজে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট, ওমানে পালানোর চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত গোলাম সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে বার্মিজ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহের পর দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে বিশ্বস্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির ডিবির একটি আভিযানিক দল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানাধীন ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন অবস্থায় গোলাম সারোয়ার খানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার পরিচয় ও বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা নথিপত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, গোলাম সারোয়ার খান নিজেকে বার্মিজ নাগরিক হিসেবে দাবি করে ওই পরিচয়ে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। এসব নথি ও বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন তিনি। পরে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত গোলাম সারোয়ার খান শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই এবং তার অন্যতম সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। বড় সাজ্জাদের অধীনে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে বড় সাজ্জাদের পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গোলাম সারোয়ার খান বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর গোলাম সারোয়ার খানকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও অপরাধচক্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা, জাল কাগজপত্র সংগ্রহের উৎস, ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং তার সঙ্গে জড়িত সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গোলাম সারোয়ার খানের সঙ্গে বড় সাজ্জাদের যোগাযোগ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা এবং ঢাকাসহ চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গোলাম সারোয়ার খানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত ও যাচাই করে দেখছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পাওয়া তথ্য, অভিযোগ এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো একত্র করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গোলাম সারোয়ার খানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে তার কর্মকাণ্ড এবং অপরাধচক্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জাল পরিচয় ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দেশত্যাগের চেষ্টার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



