ঘুমের আগে সুন্নাহসম্মত পূর্ণাঙ্গ আমল ও দোয়া

ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি মহান নিয়ামত। আল্লাহ বলেন:
﴿وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا.
আর আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রামের মাধ্যম।
—সূরা: আন-নাবা, ৭৮:৯
ঘুমানোর আগে ওযু করা, ডান কাতে শোয়া এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ শেখানো যিকির-দোয়া পড়া সুন্নাহ। নিচে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও সূত্রসহ সাজানো হলো।
♦️১. আয়াতুল কুরসি — ১ বার
﴿اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ﴾
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল-হাইয়্যুল-কাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুন ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল-আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহু ইল্লা বি-ইযনিহ। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইইন মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা, ওয়াহুওয়াল-‘আলিয়্যুল-‘আযীম।
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান ততটুকু। তাঁর কুরসি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।
—সূরা আল-বাকারা, ২:২৫৫। ঘুমানোর সময় পাঠের ফজিলত—সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১।
♦️২. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস — ৩ বার
সূরা আল-ইখলাস
﴿قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ﴾
কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস-সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
—সূরা আল-ইখলাস, ১১২:১–৪।
সূরা আল-ফালাক
﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ. مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ. وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ. وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ. وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ﴾
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল-ফালাক। মিন শাররি মা খালাক। ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াকাব। ওয়া মিন শাররিন-নাফফাসাতি ফিল-‘উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার প্রতিপালকের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে; রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়; গ্রন্থিতে ফুঁ দেয় এমন নারীদের অনিষ্ট থেকে; এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
—সূরা আল-ফালাক, ১১৩:১–৫।
সূরা আন-নাস
﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ. مَلِكِ النَّاسِ. إِلَٰهِ النَّاسِ. مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ﴾
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস। মিন শাররিল-ওয়াসওয়াসিল-খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন্নাস। মিনাল-জিন্নাতি ওয়ান্নাস।
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের প্রতিপালকের, মানুষের অধিপতির, মানুষের উপাস্যের; সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে আত্মগোপন করে; যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
—সূরা আন-নাস, ১১৪:১–৬।
সুন্নাহ: রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতে শয্যায় গেলে দুই হাত একত্র করে তাতে হালকা ফুঁ দিয়ে ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়তেন এবং শরীরের যতটুকু সম্ভব হাত দিয়ে মুছে নিতেন। এভাবে ৩ বার করতেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০১৭।
♦️৩. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত — ১ বার
﴿آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ. لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ﴾
আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল-মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ। লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া কালু সামি‘না ওয়া আতা‘না, গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল-মাসীর।
লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস‘আহা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া ‘আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লা তু’আখিযনা ইন নাসীনা আও আখতা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহ। ওয়া‘ফু ‘আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা। আনতা মাওলানা ফানসুরনা ‘আলাল-কাওমিল-কাফিরীন।
রাসুল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনরাও। প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে… আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না… হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না… আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক; অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
—সূরা আল-বাকারা, ২:২৮৫–২৮৬।
ফজিলত: “যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।”
সূত্র: সহিহ বুখারি, ৫০০৯; সহিহ মুসলিম, ৮০৭।
♦️৪. ফাতিমা (রা.)-এর তাসবিহ — ৩৩+৩৩+৩৪
سُبْحَانَ اللَّهِ — ৩৩ বার
الْحَمْدُ لِلَّهِ — ৩৩ বার
اللَّهُ أَكْبَرُ — ৩৪ বার
সুবহানাল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহু আকবার।
আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা ও আলী (রা.)-কে এটি শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, এটি তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম।
—সহিহ মুসলিম, ২৭২৭; সহিহ বুখারি।
♦️৫. “বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমূতু ওয়া আহইয়া”
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমূতু ওয়া আহইয়া।
হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই।
—সহিহ বুখারি, ৬৩২৪।
♦️৬. “বিসমিকা রাব্বী ওয়াদা‘তু জানবী”
بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
বিসমিকা রাব্বী ওয়াদা‘তু জানবী, ওয়া বিকা আরফা‘উহু। ফা ইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহী ‘ইবাদাকাস-সালিহীন।
হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামেই আমি আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমার নামেই তা উঠাব। যদি তুমি আমার প্রাণ রেখে দাও, তবে তার প্রতি দয়া করো; আর যদি তা ফিরিয়ে দাও, তবে তাকে এমনভাবে সংরক্ষণ করো, যেভাবে তুমি তোমার নেক বান্দাদের সংরক্ষণ করো।
—সহিহ বুখারি, ৬৩২০; সহিহ মুসলিম, ২৭১৪।
♦️৭. “আল্লাহুম্মা কিনী ‘আযাবাকা” — ৩ বার
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
আল্লাহুম্মা কিনী ‘আযাবাকা ইয়াওমা তাব‘আসু ‘ইবাদাক।
হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবে, সেদিন আমাকে তোমার শাস্তি থেকে রক্ষা করো।
—সুনান আবু দাউদ, ৫০৪৫।
♦️৮. “আল্লাহুম্মা খালাকতা নাফসী”
اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ
আল্লাহুম্মা খালাকতা নাফসী ওয়া আনতা তাওয়াফফাহা। লাকা মামাতুহা ওয়া মাহইয়াহা। ইন আহইয়াইতাহা ফাহফাযহা, ওয়া ইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল-‘আফিয়াহ।
হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছ এবং তুমিই তা মৃত্যু দাও। তার মৃত্যু ও জীবন তোমারই অধীন। তুমি যদি তাকে জীবিত রাখো, তবে তাকে সংরক্ষণ করো; আর যদি তাকে মৃত্যু দাও, তবে তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা চাই।
—সহিহ মুসলিম, ২৭১২।
♦️৯. “আল্লাহুম্মা রব্বাস-সামাওয়াত”
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الْأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
আল্লাহুম্মা রব্বাস-সামাওয়াতি ওয়া রাব্বাল-আরদি ওয়া রাব্বাল-‘আরশিল-‘আযীম। রাব্বানা ওয়া রাব্বা কুল্লি শাই’ইন। ফালিকাল-হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত-তাওরাতি ওয়াল-ইনজীলি ওয়াল-ফুরকান। আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাই’ইন আনতা আখিযুম বিনাসিয়াতিহ। আল্লাহুম্মা আনতাল-আউয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাই’উন, ওয়া আনতাল-আখিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাই’উন, ওয়া আনতায-যাহিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাই’উন, ওয়া আনতাল-বাতিনু ফালাইসা দুনাকা শাই’উন। ইকদি ‘আন্নাদ-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল-ফাকর।
হে আল্লাহ! তুমি আকাশসমূহের প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং মহান আরশের প্রতিপালক। তুমি আমাদের ও সবকিছুর প্রতিপালক। তুমি শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী এবং তাওরাত, ইঞ্জিল ও ফুরকান অবতীর্ণকারী। তুমি যার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছ, তার অনিষ্ট থেকে আমি তোমার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তুমি প্রথম, তোমার আগে কিছু নেই; তুমি শেষ, তোমার পরে কিছু নেই; তুমি প্রকাশ্য, তোমার ওপরে কিছু নেই; তুমি অপ্রকাশ্য, তোমার নিচে কিছু নেই। আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দাও এবং আমাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করো।
—সহিহ মুসলিম, ২৭১৩।
♦️১০. সূরা আল-কাফিরুন
﴿قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ. لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ. وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ. وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ. وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ. لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ﴾
কুল ইয়া আইয়ুহাল-কাফিরূন। লা আ‘বুদু মা তা‘বুদূন। ওয়ালা আনতুম ‘আবিদূনা মা আ‘বুদ। ওয়ালা আনা ‘আবিদুম মা ‘আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম ‘আবিদূনা মা আ‘বুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।
বলুন, হে কাফিরগণ! তোমরা যার ইবাদত করো, আমি তার ইবাদত করি না। আর তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য।
—সূরা আল-কাফিরুন, ১০৯:১–৬। হাদিস: সুনান আবু দাউদ, ৫০৫৫; জামে তিরমিজি।
🔴১১. সূরা আস-সাজদাহ ও সূরা আল-মুলক
রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর আগে সূরা আস-সাজদাহ ও সূরা আল-মুলক পাঠ করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
—জামে তিরমিজি।
সূরা আল-মুলকের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ»
কুরআনের একটি ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট সূরা একজন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে, অবশেষে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
—সুনান আবু দাউদ ও জামে তিরমিজি।
🔴১২. সর্বশেষ পড়ার দোয়া — “আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা”
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতাও ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।
হে আল্লাহ! আমি আমার নিজেকে তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার সব বিষয় তোমার কাছে সোপর্দ করলাম এবং তোমার ওপর নির্ভর করলাম—তোমার প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও ভয় নিয়ে। তোমার কাছ থেকে আশ্রয় ও মুক্তির কোনো স্থান নেই, তুমি ছাড়া। হে আল্লাহ! তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, তাতে আমি ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নবী পাঠিয়েছ, তাঁর প্রতিও ঈমান এনেছি।
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “এগুলো বলার পর যদি সে রাতে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে; আর এগুলোকে যেন তার সর্বশেষ কথা বানায়।”
—সহিহ বুখারি, ২৪৭; সহিহ মুসলিম, ২৭১০।
ঘুমানোর আগে সুন্নাহর কিছু আদব
⭕১. ওযু করা:
«إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ»
তুমি যখন তোমার শয্যায় যাবে, তখন নামাজের ওযুর মতো ওযু করবে।
—সহিহ বুখারি, ২৪৭; সহিহ মুসলিম, ২৭১০।
⭕২. ডান কাতে শোয়া:
«ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الْأَيْمَنِ»
এরপর তোমার ডান কাতে শুয়ে পড়ো।
—সহিহ বুখারি, ২৪৭; সহিহ মুসলিম, ২৭১০।
⭕৩. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া:
«إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ»
তোমাদের কেউ যখন তার বিছানায় যাবে, সে যেন তার কাপড়ের ভেতরের অংশ দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয়।
—সহিহ বুখারি, ৬৩২০; সহিহ মুসলিম, ২৭১৪।
⭕৪. উপুড় হয়ে না শোয়া: এভাবে শোয়াকে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে।
—সুনান আবু দাউদ, ৫০৪০।
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে
«لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল-হামদু, ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর। আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া সুবহানাল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ পবিত্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
এরপর “আল্লাহুম্মাগফির লী” বললে বা দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। ওযু করে নামাজ পড়লে নামাজও কবুল হয়।—সহিহ বুখারি, ১১৫৪।
ঘুমের অস্থিরতা বা অনিদ্রা হলে
“আল্লাহুম্মা গারাতিন-নুজূম…” নামে যে দোয়াটি প্রচলিত, সেটির সনদ দুর্বল। তাই অনিদ্রার সময় সহিহ হাদিসে বর্ণিত যিকিরগুলো পড়া এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা উত্তম।
ঘুম থেকে জাগার দোয়া
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন-নুশূর।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।—সহিহ বুখারি, ৬৩১২।
সংক্ষিপ্তভাবে ঘুমানোর আগের আমল
♦️১. ওযু করে ডান কাতে শোয়া।
♦️২. আয়াতুল কুরসি ১ বার।
♦️৩. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মুছে নেওয়া।
♦️৪. সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া।
♦️৫. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার।
♦️৬. “বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমূতু ওয়া আহইয়া” পড়া।
♦️৭. “বিসমিকা রাব্বী ওয়াদা‘তু জানবী…” পড়া।
♦️৮. “আল্লাহুম্মা কিনী ‘আযাবাকা…” ৩ বার পড়া।
♦️৯. সম্ভব হলে সূরা কাফিরুন, সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া।
♦️১০. সবশেষে “আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা…” পড়ে ঘুমিয়ে পড়া।
নোট: ঘুমের সবগুলো যিকির প্রতিদিন পড়া আবশ্যক নয়। এগুলো সুন্নাহ ও মুস্তাহাব আমল। তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত আমলগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করা উত্তম।
— আইন উদ্দিন আইনী
🔷🔷🌺🌺🔷🔷🌺🌺🔷🔷🌺🌺🔷🔷



