
স্টাফ রিপোর্টার: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালাল চক্রের দাপট ও অপতৎপরতা থামেনি। অতীতে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে পুরো কার্যালয় নিয়ন্ত্রণকারী বহুল আলোচিত মোহাম্মদ দুলাল ওরফে ‘খাটো দুলাল’ বা ‘পিচ্চি দুলাল’ এখন বিএনপি সরকারের নাম ভাঙিয়ে বিআরটিএ-তে চাঁদাবাজি, দালালি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিআরটিএর ১২৭ নম্বর কক্ষসহ প্রায় সবকটি বিভাগেই দুলাল সিন্ডিকেটের রাজত্ব বজায় রয়েছে। সরকারি নির্দিষ্ট সময়সূচির পর রাত পর্যন্ত ১২৭ নম্বর কক্ষে উপস্থিত থেকে তিনি ফাইল আদান-প্রদান এবং সরাসরি সিল মারার কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। এই চক্রে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রনজিতের সরাসরি মদদ ও যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে। সিএনজি অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনের ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন ও রোড পারমিটসহ বিআরটিএর বিভিন্ন শাখা থেকে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শেওড়াপাড়া ও কাফরুল এলাকার রাজনীতির নাম ভাঙানো দুলাল নিজেকে কাফরুল থানা যুবদলের সভাপতি রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করলেও, যুবদল নেতা রাজ্জাক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত এবং দল কোনোভাবেই এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড সমর্থন করবে না। বিএনপির হাইকমান্ড এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরাও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুলাল বর্তমানে দলীয় কোনো পদে নেই; নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম বা চাঁদাবাজি করলে তাঁকে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুইজন সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ও রাহিমা আক্তার মুক্তা এই দালাল চক্রের অনুসন্ধানী ভিডিও ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে গেলে দুলাল তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে বিআরটিএর সাধারণ কর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, সন্ত্রাসী দুলাল ও তাঁর বাহিনীর ভয়ে তাঁরা সবসময় তটস্থ থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানী পত্রিকা ‘অপরাধ বিচিত্রা’-র পক্ষ থেকে দুলালের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে কেবল ‘দুলাল’ দাবি করে বিআরটিএ বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে আয়ের উৎস ও পেশা নিয়ে অমিল কথার একপর্যায়ে তিনি বিএনপির সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বসেন। তাঁর এ ধরনের পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রমাণ করে যে তিনি নিজের অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
দেশের প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন সেবা প্রদানকারী এই সংস্থায় একের পর এক সরকার বদলালেও ‘দুলাল সিন্ডিকেটের’ অপ্রতিহত দাপট বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাঁরা অনতিবিলম্বে দুলালসহ তাঁর মদদদাতা বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



