অপরাধ

টিসিবির ডিও প্রতি ঘুষ দাবি ও গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বরাদ্দের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। টিসিবির শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিটি ডিও সরবরাহে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রাখা এবং ডিলারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় ঘুষ দাবি ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ছাতক উপজেলার ক্ষুব্ধ ডিলাররা। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠানো এই লিখিত অভিযোগে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ডিলারদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার ডিলাররা টিসিবির চাল, ডাল ও তেলসহ সরকারি পণ্য উত্তোলন করে থাকেন। প্রতি মাসে নির্ধারিত বরাদ্দের ডিও তুলতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। ডিলার নিজে সরাসরি গেলে ডিওপ্রতি ৫০০ টাকা এবং কোনো প্রতিনিধি পাঠালে ডিওপ্রতি ১ হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট আগস্ট মাসের পণ্য সংগ্রহের জন্য ছাতক উপজেলার ১৬টি নির্ধারিত স্পটের মধ্যে অতিরিক্ত স্পটের জন্য চারটি গাড়ি পাঠায় ডিলারদের একটি প্রতিনিধি দল। ওই দিন শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেলে টিসিবি প্রধান সাদ্দাম হোসেন প্রতি ডিওর জন্য ১ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্যালয়ের প্রধান এবং এক কম্পিউটার অপারেটর প্রতিনিধিদের গালিগালাজ করেন এবং জোরপূর্বক পণ্যবাহী চারটি গাড়ি আটকে রাখেন।

ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর ডিলাররা পণ্য বিক্রি বন্ধ রেখে কারণ জানতে সরাসরি শেরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান। ডিলারদের দাবি, আঞ্চলিক প্রধান সাদ্দাম হোসেন তাদেরকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে আগে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং পরবর্তীতে সেই স্বাক্ষরিত কাগজের অজুহাতে তাদের হাতে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ ধরিয়ে দেন।

ডিলারদের ভাষ্য, ৩১ আগস্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে গাড়ি আটকে রাখা এবং হয়রানির সত্যতা পাওয়া যাবে। তাই তদন্তের স্বার্থে ওই দিনের পুরো সিসিটিভি ফুটেজ আলামত হিসেবে সংগ্রহের দাবি তুলেছেন তারা।

নিম্নআয়ের অসচ্ছল মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ায় ব্যবহৃত টিসিবির মতো সংস্থায় এ ধরনের অনিয়মের খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দাবির কারণে একদিকে যেমন সময়মতো পণ্য পৌঁছানো বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ডিলাররা অবিলম্বে ডিও উত্তোলনে সরকারি কোনো ফির অস্তিত্ব আছে কি না তা প্রকাশ করা এবং ১ সেপ্টেম্বরের শোকজ নোটিশ ও ডিও রেজিস্টার যাচাই করে তদন্তের আহ্বান জানান।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিযুক্ত শেরপুর আঞ্চলিক প্রধান সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও টিসিবির মন্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button