ইসলাম ধর্ম

সুরা ফাতিহার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কিত এক অনন্য হাদিসে কুদসি

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: সালাত বা নামাজ কেবল কতগুলো শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বা নির্দিষ্ট কিছু রুকন পালনের নাম নয়; বরং এটি হলো বান্দার সাথে মহান আল্লাহর এক গভীর ও সরাসরি কথোপকথন। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে কুদসিতে সালাতের ভেতরের এই আধ্যাত্মিক সংযোগের এক অপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে।

সহিহ মুসলিমের এই হাদিসে কুদসিতে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন যে, তিনি পবিত্র সুরা ফাতিহাকে তাঁর এবং তাঁর বান্দার মাঝে সমান দুভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। বান্দা সালাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করার সময় যখন এর একেকটি আয়াত তিলাওয়াত করে, তখন প্রতিটির বিপরীতে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বান্দার জবাব দেন:

১. প্রশংসার জবাবে: বান্দা যখন বলে— ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব), তখন আল্লাহ তাআলা বলেন— “আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।”

২. গুণগানের জবাবে: বান্দা যখন বলে— ‘আর-রাহমানির রাহিম’ (দয়াময়, পরম দয়ালু), তখন আল্লাহ বলেন— “আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে।”

৩. শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার জবাবে: বান্দা যখন বলে— ‘মালিকি ইয়াউমিদ দিন’ (বিচার দিবসের মালিক), তখন আল্লাহ বলেন— “আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছে।” (বর্ণনাভেদে এসেছে— আমার বান্দা তার বিষয় আমার ওপর ন্যস্ত করেছে)।

৪. ইবাদত ও সাহায্য চাওয়ার জবাবে: বান্দা যখন বলে— ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন’ (আপনারই আমরা ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই), তখন আল্লাহ ঘোষণা করেন— “এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে ভাগ করা, আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চাইবে।”

৫. হিদায়াতের প্রার্থনার জবাবে: বান্দা যখন সুরা ফাতিহার শেষ অংশ— ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম…’ (আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন…) তিলাওয়াত করে, তখন মহান আল্লাহ বলেন— “এটি সম্পূর্ণ আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চাইবে।”

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সালাতে সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা নিছক কোনো সাধারণ পাঠ নয়; বরং এটি খোদ আল্লাহর সাথে বান্দার নিভৃত আলাপ। সুরা ফাতিহার প্রথমাংশে বান্দা তার রবের বড়ত্ব, গুণগান ও একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয় এবং শেষাংশে নিজের চরম محتاجی (প্রয়োজনীয়তা) ও হিদায়াতের অদম্য আকুতি মহান প্রভুর দরবারে পেশ করে।

প্রতিটি মুসলিমের উচিত সালাতে সুরা ফাতিহা তিলাওয়াতের সময় এর অর্থ ও ভাবার্থ হৃদয়ে ধারণ করা, যেন এই ঐশ্বরিক কথোপকথনের সৌন্দর্য ও বরকত পুরোপুরি অনুভব করা সম্ভব হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button