ইসলাম ধর্ম

হজরত ঈসা (আ.)-এর মুজিজা ও নবুওয়তের ঐতিহাসিক নিদর্শন

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে যত নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে কোনো না কোনো বিশেষ মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন দান করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম উলুল আজম নবী হজরত ঈসা (আ.)-এর জীবন ছিল আল্লাহর অসীম কুদরত ও অলৌকিক নিদর্শনে ভরপুর। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে তাঁর নবুওয়তের প্রধান নিদর্শনগুলো একনজরে দেখে নেওয়া যায়:

১. দোলনায় কথা বলা ও নবুওয়ত লাভ

হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মই ছিল আল্লাহর অসীম কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন। শৈশবে কাসুদে বা দোলনায় থাকা অবস্থায় তিনি কথা বলে আল্লাহর বান্দা হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিল যে আল্লাহ তাঁকে কিতাব ও নবুওয়ত দান করেছেন (সুরা মারিয়াম, ১৯:২৯–৩০)।

২. ইঞ্জিলপ্রাপ্তি ও তাওরাতের সত্যতা নিশ্চিতকরণ

আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিদায়াত ও আলোর প্রতীক হিসেবে ‘ইঞ্জিল’ কিতাব দান করেছিলেন। তিনি তাঁর পূর্বে অবতীর্ণ ‘তাওরাত’ কিতাবের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং আল্লাহর নির্দেশে কিছু বিধান সহজ করে বনি ইসরাইলকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান (সুরা আলে ইমরান, ৩:৫০; সুরা আল-মায়িদা, ৫:৪৬)।

৩. আল্লাহর অনুমতিক্রমে অলৌকিক নিদর্শনাবলি

ঈসা (আ.)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাগুলো তাঁর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা ছিল না, বরং সবই ছিল আল্লাহর বিশেষ অনুমতিক্রমে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • মাটির পাখি জীবিত করা: মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করে ফুঁ দেওয়ার পর আল্লাহর হুকুমে তা জীবন্ত পাখিতে পরিণত হওয়া (সুরা আলে ইমরান, ৩:৪৯)।
  • রোগমুক্তি: আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা।
  • মৃতকে জীবিত করা: আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃত ব্যক্তিকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার নিদর্শন দেখানো, যা প্রমাণ করে জীবন ও মৃত্যুর ওপর একক কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহর।
  • অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ: মানুষ নিজ ঘরে কী খাচ্ছে বা কী সঞ্চয় করে রেখেছে, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করা।

৪. নিদর্শন দেখার পরও মানুষের অস্বীকার ও শিক্ষা

এত সব সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন দেখার পরও বনি ইসরাইলের একটি অংশ ঈসা (আ.)-এর আহ্বান গ্রহণ করেনি। মানুষের অহংকার, অন্ধ গোঁড়ামি এবং অবাধ্যতা যে কীভাবে সত্যের আলো থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে, এটি তারই এক বাস্তব প্রমাণ।

হজরত ঈসা (আ.)-এর জীবনের এসব অলৌকিক ঘটনা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, সমস্ত ক্ষমতার প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। নবী-রাসুলরা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত মাধ্যম মাত্র। তাই জাগতিক যেকোনো পরিস্থিতিতে অহংকার ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নেওয়া এবং তাঁরই আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button