ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

পানি ও খাবারহীন ৩ দিন মরুভূমিতে ঘোরানোর পরও কীভাবে বেঁচেছিলেন এই নারী সাহাবি?

ইসলামিক বিচিত্রা ডেস্ক: মক্কার প্রারম্ভিক যুগে ইসলাম প্রচার ও তাওয়ার প্রসারে যে সমস্ত সাহাবি অকথ্য নির্যাতন সহ্য করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে নারী সাহাবিদের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। তৎকালীন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইসলামের আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার মিশনে অটল ছিলেন এক বীর সাহাবিয়া—হজরত উম্মু শারীক (রা.)। আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার পরও তাঁর ঈমানি দৃঢ়তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

মক্কার সেই ভয়াবহ সময়ে যখন ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর কুরাইশদের পক্ষ থেকে স্টিমরোলার চালানো হতো, তখনো উম্মু শারীক (রা.) ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে মক্কার নারীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকতেন এবং তাগুত বর্জনের আহ্বান জানাতেন।

একসময় তাঁর এই দাওয়াতি কার্যক্রমের খবর কুরাইশ নেতাদের কানে পৌঁছে যায়। তারা তাঁকে ধরে এনে ইসলাম ত্যাগ করার এবং দাওয়াত বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সত্যের পথ থেকে তিনি একচুলও সরে দাঁড়াননি; জাহিলিয়াতের কোনো হুমকির কাছেই তিনি মাথা নত করেননি।

কুরাইশরা যখন কোনোভাবেই তাঁকে তাওহিদের পথ থেকে সরাতে ব্যর্থ হলো, তখন তাঁর ওপর নেমে আসে পৈশাচিক নির্যাতন। তাঁকে একটি উটের পিঠে বসিয়ে প্রখর রোদ ও উত্তপ্ত বালুময় মরুভূমিতে একটানা তিন দিন ঘোরানো হয়। এই সময়ে তাঁকে কোনো খাবার বা এক ফোঁটা পানিও দেওয়া হয়নি।

তৃষ্ণায় তাঁর ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল এবং তীব্র গরমে গায়ের চামড়া যেন গলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মৃত্যু যখন ঠিক সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, তখন তিনি সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করেন।

ঠিক সেই সংকট মুহূর্তে আল্লাহর অসীম রহমত নেমে আসে। তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মাথার ওপর ঠান্ডা পানিভর্তি একটি পাত্র ঝুলছে। তিনি সেই শীতল পানি পান করে তৃষ্ণা মেটালেন এবং শরীরে ঢেলে নিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর পুরো শরীর ও প্রাণশক্তি ফিরে এল।

পরের দিন সকালে কুরাইশরা এসে বিস্ময়ে দেখল, যাকে তারা তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাঁর চেহারায় ক্লান্তি বা মৃত্যুর কোনো ছাপ নেই; বরং তাঁর মুখে সতেজতার দীপ্তি ঝিলিক দিচ্ছে। তারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি আমাদের পানির মশক খুলে পানি খেয়েছ?” উম্মু শারীক (রা.) দৃঢ়কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “না, আল্লাহই আমাকে পানি খাইয়েছেন।”

১. আল্লাহর ওপর অগাধ ভরসা: যখন পৃথিবীর সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং সাহায্য করার মতো কেউ থাকে না, ঠিক তখনই মহান আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে যায়। যিনি একমাত্র আল্লাহর হয়ে যান, আল্লাহ তাআলা তাকে পরম মমতায় রক্ষা করেন।

২. ইসলামের জন্য ত্যাগের মহিমা: আজকের এই পবিত্র ইসলাম কোনো সহজ পথে আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। উম্মু শারীক (রা.)-এর মতো মহান নারীরা তাঁদের রক্ত, ঘাম ও জীবন দিয়ে এই দ্বীনকে আগলে রেখেছিলেন।

৩. ঈমানের অবিচলতা: যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও বাতিলের কাছে নতি স্বীকার না করে তাওহিদের ওপর অবিচল থাকার অতুলনীয় আদর্শ রেখে গেছেন এই সাহাবিয়া।

মহান আল্লাহ তাআলা উম্মু শারীক (রা.)-এর ওপর তাঁর অসীম রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের প্রত্যেককে তাঁর মতো সাহসী ঈমান ও দ্বীনের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button