আইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

বায়েজিদে হত্যা রহস্য উদঘাটন, অস্ত্রসহ ৬ গ্রেফতার

দুলাল শিকদার: চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও সহযোগী মোট ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, তাজা গুলি এবং আসামিদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ০৭ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশ বাড়িয়া গলিতে আব্দুল হাইয়ের বাড়ির সামনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোঃ হাসান ওরফে রাজু (২৪)-কে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা রেশমি আক্তার (১২) নামের এক কিশোরীও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

নিহত রাজুর মা সকিনা বেগম বাদী হয়ে গত ০৯ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব আমিরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী সৈয়দুল করিম (২৭)-এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত ১১ মে দুপুরে কক্সবাজার জেলার সুগন্ধা সি-বিচ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সৈয়দুল করিম প্রাথমিকভাবে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে ভিকটিম হাসান ওরফে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনার সময় তার পরিহিত টি-শার্ট ও ট্রাউজার উদ্ধার করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। একই অভিযানে সিএনজি চালক আব্দুল মান্নান (৩৭)-কে ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় আসামিদের বহনে এই সিএনজি ব্যবহার করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে মূল আসামি সৈয়দুল করিমকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ইউনুচ মিয়া (২৪) ও আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১)-কে রৌফাবাদ ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃত সিএনজি চালক আব্দুল মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার সঙ্গে জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজন আসামি আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী (৩৯)-এর নাম জানতে পারে পুলিশ। পরবর্তীতে চাঁন্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, হামলা ও সহিংসতার মামলা রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান আসামি সৈয়দুল করিমের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী ও চান্দগাঁও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকনের বিরুদ্ধেও রাউজান থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং চট্ট মেট্রো-থ-১৩-১২৫৭ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশা।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button