উম্মতের প্রতি নবীজির অসীম মায়া ও সুরা আদ-দোহার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইসলামিক ডেস্ক: পবিত্র কুরআনের সুরা আদ-দোহা নাজিল হওয়ার সময় এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল পৃথিবী। ওহী নাজিলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জিবরাইল (আ.) যখন পাঠ করছিলেন—‘ওয়া লাছাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা’ (অর্থাৎ: শীঘ্রই আপনার পালনকর্তা আপনাকে এত বেশি দেবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হবেন), তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) এক অভাবনীয় আরজি পেশ করেছিলেন।
আরবের প্রখর উত্তাপ আর ওহী নাজিলের প্রচণ্ড ভারে নবীজি (সা.) প্রায়ই ঘামতেন এবং শারীরিক ক্লান্তি অনুভব করতেন। কিন্তু এই আয়াতটি শোনার পর তিনি জিবরাইল (আ.)-কে থামিয়ে দিয়ে এক ঐতিহাসিক মন্তব্য করেন। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে সাক্ষী রেখে বলেন, “আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি আমাকে খুশি করবেন। তবে শোনো, আমার একজন উম্মতও যদি জাহান্নামে থাকে, তবে আমি কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারব না। সবাইকে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত আমি আল্লাহর ওপর খুশি হব না।”
উম্মতের প্রতি এই যে অসীম মমতা ও মায়া, তা তিনি আমৃত্যু নিজের হৃদয়ে লালন করেছেন। এমনকি তাঁর ওফাতের সময়ও এই একই আকুতি ফুটে উঠেছিল। বর্ণনা অনুযায়ী, মালাকুল মউত আজরাইল (আ.) যখন নবীজির (সা.) শিয়রে অনুমতি প্রার্থনা করছিলেন, তখন প্রিয় নবীজির (সা.) চোখ ভিজে উঠেছিল অশ্রুতে। জিবরাইল (আ.) যখন তাঁকে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার কথা বললেন, তখন মহানবী (সা.) নিজের কষ্টের চেয়ে উম্মতের ভবিষ্যতের চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে পড়েন।
তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “জিবরাইল, আমার প্রস্থানের পর আমার এই এতিম উম্মতকে দেখে রাখবে কে?” নবীজির এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সান্ত্বনা দিয়ে জানান, “হে নবী, আমি আপনার উম্মতকে একা ছাড়ব না; আমি নিজেই তাদের আগলে রাখব এবং দেখে রাখব।”
আল্লাহর সেই ওয়াদা আজও প্রতিটি মুমিনের জন্য এক পরম আশার আলো। হাশরের ময়দানেও নবীজির এই সুপারিশ ও আল্লাহর বিশেষ রহমত উম্মতের সহায় হবে।
বাস্তব জীবনেও দেখা যায়, মানুষ যখন ঘোর সংকটে পড়ে, সব পথ যখন বন্ধ মনে হয়, তখনও মহান আল্লাহ কোনো না কোনোভাবে মুক্তির উপায় বের করে দেন। মুমিন জীবনে কত ঝড়-ঝাপটা যায়, কত অপ্রাপ্তি থাকে; কিন্তু আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে নিঃস্ব বা একা করেন না। জীবন চলার পথে স্রষ্টার এই অদৃশ্য ছায়া ও প্রিয় নবীজির (সা.) সেই সুমহান ভালোবাসাই মূলত মুমিনদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আলহামদুলিল্লাহ।



