বরকতময় জীবনের জন্য বর্জনীয় যা কিছু

ইসলামিক ডেস্ক: অনেক সময় আমরা কঠোর পরিশ্রম করার পরও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাই না। মনের অজান্তেই আমরা বলে উঠি “সময়টাই খারাপ যাচ্ছে” কিংবা “ভাগ্য সহায় হচ্ছে না”। কিন্তু ইসলামের আধ্যাত্মিক দর্শনে রিযিক বা জীবিকার বিষয়টি কেবল পরিশ্রমের ওপর নয়, বরং মানুষের আমল ও আচরণের ওপরও গভীরভাবে নির্ভরশীল। পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “নিশ্চয়ই মানুষ তার কৃত গুনাহের কারণেই রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)।
উল্লেখ্য যে, রিযিক বলতে কেবল কাড়ি কাড়ি টাকা-পয়সাকে বোঝায় না। জীবনের নিরাপত্তা, মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা এবং পারিবারিক সৌহার্দ্য—সবই রিযিকের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বিশেষ কিছু পাপ মানুষের জীবন থেকে এই বরকত কেড়ে নেয়।
১. গোপন পাপাচার ও অন্তরের কলুষতা: মানুষের আড়ালে করা পাপাচার বা ‘গোপন গুনাহ’ রিযিকের বরকত নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তিনি চোখের খেয়ানত ও অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত” (সূরা গাফির: ১৯)। অশ্লীলতা বা প্রবঞ্চনা যখন অন্তরে বাসা বাঁধে, তখন তা ধীরে ধীরে মানুষের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও রিযিকের বরকত কমিয়ে দেয়।
২. হারামের ছোঁয়ায় কলুষিত উপার্জন: সুদ, ঘুষ কিংবা প্রবঞ্চনার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বাইরে থেকে অনেক মনে হলেও তাতে প্রকৃতপক্ষে কোনো কল্যাণ থাকে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “যে শরীর হারাম খাদ্যের মাধ্যমে বেড়ে ওঠে, তার জন্য জাহান্নামই শ্রেয়” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬১৪)। হারাম উপার্জন সম্পদ বাড়াতে পারলেও জীবনের তৃপ্তি ও বরকত কেড়ে নেয়।
৩. নামাজে অনীহা ও অবহেলা: নামাজ মুমিনের জীবনের মেরুদণ্ড এবং স্রষ্টার সাথে সংযোগের প্রধান মাধ্যম। সূরা ত্বা-হাতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমার পরিবারকে নামাজের আদেশ দাও এবং নিজেও তাতে অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে রিযিক চাই না; বরং আমিই তোমাকে রিযিক দিই” (আয়াত: ১৩২)। নামাজের প্রতি অবহেলা পরোক্ষভাবে মানুষের বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক রিযিককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৪. হক্কুল ইবাদ বা মানুষের অধিকার হরণ: অন্যের প্রাপ্য বুঝিয়ে না দেওয়া কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে কারো অধিকার নষ্ট করা রিযিকের বরকত নষ্টের বড় একটি কারণ। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী (হাদিস নং: ২৪৪৯), কারো ওপর যদি তার ভাইয়ের কোনো পাওনা থাকে, তবে তা দ্রুত পরিশোধ করা মুমিনের দায়িত্ব। অন্যথায় সেই দায় মানুষের জীবনে অদৃশ্য সংকট ও অশান্তি ডেকে আনে।
তবে ইসলামের সৌন্দর্য হলো, ভুলের পর ফিরে আসার পথ সবসময় খোলা থাকে। সূরা নূহ-এ (আয়াত: ১০-১২) আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন যে, যারা তওবা ও ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাদের জন্য আকাশের রহমতের দুয়ার খুলে দেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান দ্বারা সাহায্য করেন।
জীবনের হারানো বরকত ফিরিয়ে আনতে বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা, উপার্জনকে সম্পূর্ণ হালাল রাখা, নামাজে একনিষ্ঠ হওয়া এবং মানুষের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া একান্ত জরুরি। আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলেই মহান আল্লাহর রহমতের দ্বার পুনরায় উন্মোচিত হওয়া সম্ভব।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রিযিকের প্রশস্ততা এবং বরকতময় জীবন দান করুন। আমিন।



