চট্টগ্রামে ইপসার জব ফেয়ারে চাকরির সুযোগ পেলেন দের শতাধিক তরুণ-তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ইপসার ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলেন তরুণ-তরুণীরা
চট্টগ্রামে যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নগরীর স্টেশন রোডস্থ এশিয়ান এসআর হোটেলে এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক জসিম উদ্দিন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে রেইজ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণও সফল কর্মজীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
বিশেষ অতিথি আতিয়া চৌধুরী বলেন, বর্তমান যুগে দক্ষতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কর্মমুখী প্রশিক্ষণ তরুণ-তরুণীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করে। তিনি নারীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশের বিপুল যুব জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) মিসেস নাছিম বানু। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে রেইজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩০৮ জন উপকারভোগীকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৮৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী ছয় মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়ক মোস্তাক আহমেদ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন না, বরং উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাচ্ছেন।
জব ফেয়ারে প্রায় ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি ১০ থেকে ১২টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নেয়। মেলায় অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করার সুযোগ পান এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এছাড়াও চাকরিপ্রত্যাশীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিভি প্রস্তুতকরণ, চাকরির সাক্ষাৎকারে সফল হওয়ার কৌশল এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি ওরিয়েন্টেশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



