আনোয়ারায় স্কুল কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, প্রজ্ঞাপন গোপন রেখে মাত্র একদিনের নোটিশে আবেদন আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১নং বৈরাগ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন কমিটি গঠনের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির প্রায় এক মাস পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নোটিশের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও পরিচালনা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে গত ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পূর্বে জারিকৃত সকল আদেশ ও প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি দীর্ঘদিন প্রকাশ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজয় পাল অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সিপাতুন নিছা বিষয়টি যথাসময়ে প্রকাশ করেননি। অবশেষে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের মাত্র একদিন আগে, ১০ এপ্রিল কমিটি গঠনের নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এতে সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, কমিটিতে অংশ নিতে প্রয়োজনীয় ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করতে সময় লাগে। অথচ মাত্র একদিন সময় দিয়ে নোটিশ প্রকাশ করায় অধিকাংশ অভিভাবকের পক্ষে আবেদন করা সম্ভব হয়নি।
আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে পছন্দের কমিটি গঠন করতেই বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন হলে এমন লুকোচুরি করার প্রয়োজন হতো না।
অভিভাবকরা এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়গুলো সাধারণত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা দেখভাল করেন। তাদের সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানা যাবে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, প্রজ্ঞাপন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কেন এতদিন তা প্রকাশ করা হয়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পূর্ব বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সিপাতুন নিছার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজয় পালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির প্রায় এক মাস পর কেন নোটিশ প্রকাশ করা হলো এবং কার স্বার্থে অভিভাবকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হলো? বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।



