
মোঃ ফজলুর রহমান: গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচে বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাটি এখন সাধারণ পথচারীদের জন্য আতঙ্কের স্থানে পরিণত হয়েছে। একদল মাদকাসক্ত কিশোর পথচারীদের পথ আটকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে এদের এমন অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চলাচলকারী যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫-৬ বছর বয়সী একদল কিশোর প্রকাশ্যে ড্যান্ডি বা গামজাতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে থাকে। নেশার ঘোরে তারা ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থান নেয় এবং পথচারীদের দেখলেই তাদের পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যতক্ষণ না পথচারীরা তাদের ১০ টাকা করে দিচ্ছে, ততক্ষণ তারা পা ছাড়ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পথচারী হেনস্থা এড়াতে টাকা দিয়ে তাদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন। সংগৃহীত সেই টাকা দিয়েই তারা পুনরায় মাদক কিনছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার তাদের সতর্ক করার পরও তারা তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
এক ভুক্তভোগী পথচারীর অভিযোগের ভিত্তিতে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ‘অপরাধ বিচিত্রা’র প্রতিনিধিদল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর, তাৎক্ষণিকভাবে কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সের কর্মকর্তা মোঃ শুকুর আলীর সহায়তা নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তা শুকুর আলীর তৎপরতায় ওই মাদকাসক্ত কিশোরদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃত কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং প্রথমবারের মতো অপরাধ স্বীকার করায়, উপস্থিত জনতার সামনে তাদের কান ধরিয়ে উঠবস করিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সের কর্মকর্তা মোঃ শুকুর আলী জানান, “আমরা এলাকাটির বিষয়ে সচেতন রয়েছি। এসব অল্পবয়সী কিশোর যেন ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে পুনরায় লিপ্ত হতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখব। অভিভাবকদেরও তাদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধুমাত্র কান ধরিয়ে ছেড়ে দিলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং এই পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং মাদক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনলে তবেই এই এলাকাটি পথচারীদের জন্য নিরাপদ হবে।



