নামাজের প্রথম তাশাহহুদের সঠিক নিয়ম: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের নির্দেশনা

ইসলামিক ডেস্ক: নামাজ মুমিনের মেরুদণ্ড। আর এই ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত ও সুন্দর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতি বা সুন্নাহ অনুসরণ করা অপরিহার্য। নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রথম তাশাহহুদ বা প্রথম বৈঠক। হাদিসের আলোকে এই বৈঠকে বসার সঠিক ভঙ্গি, হাতের অবস্থান, দৃষ্টির স্থান এবং পঠিত দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো।
বসার ভঙ্গি ও পায়ের অবস্থান: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নামাজের সুন্নাহ পদ্ধতি হলো— বাম পা বিছিয়ে দেওয়া এবং ডান পা খাড়া রাখা। বসার সময় ডান পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে মুখ করে রাখতে হবে এবং বাম পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাকাত শেষে যখন বৈঠকে বসতেন, তখন তিনি এভাবেই নিজের শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা করতেন।
উভয় হাতের অবস্থান ও তর্জনী ইশারা: হজরত ওয়ায়িল ইবনে হুজর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বৈঠকে বসার সময় তাঁর ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাম হাত বাম উরুর ওপর রাখতেন। দোয়া বা তাশাহহুদ পড়ার সময় তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল উঠিয়ে কিবলার দিকে ইঙ্গিত করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এক ব্যক্তিকে নামাজে হাতের আঙুল দিয়ে পাথর নাড়াচাড়া করতে দেখে সতর্ক করে বলেছিলেন, “নামাজে এমনটি করো না, এটি শয়তানের কাজ।” তিনি আরও জানান, আঙুল দিয়ে ইশারা করার সময় দৃষ্টি সেই আঙুলের অগ্রভাগের দিকে রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত অভ্যাস ছিল।
তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়াতু পাঠ: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। বৈঠকে বসে নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাত:
“আত্তাহিয়াতু লিল্লা-হি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত ত্বাইয়িবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।”
উল্লেখ্য যে, সাহাবিরা আগে ‘আসসালামু আলাল্লাহ’ (আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলতেন। তখন নবীজি (সা.) তা সংশোধন করে দিয়ে বলেন, “আল্লাহ নিজেই তো ‘সালাম’ বা শান্তির উৎস; সুতরাং তোমরা আত্তাহিয়াতু পাঠ করো।”
প্রথম বৈঠক ভুলে গেলে করণীয়: মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। হজরত ইবনে বুহায়না (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাকাত শেষে না বসেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। সাহাবিরা তাঁকে স্মরণের জন্য ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে লুকমা দিলেও তিনি নামাজ চালিয়ে যান। তবে নামাজের শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সালাম ফিরানোর আগে তিনি অতিরিক্ত দুটি ‘সাহু সিজদা’ আদায় করেন। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ভুলবশত প্রথম বৈঠক ছেড়ে দিলে পুনরায় বসার প্রয়োজন নেই, বরং নামাজের শেষে সাহু সিজদা দিলেই তা পূর্ণতা পায়।
পরিশেষে, নামাজের প্রতিটি রুকন ও বৈঠক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আদায় করা মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। তাশাহহুদের সময় অত্যন্ত একাগ্রতা ও বিনম্রতার সাথে দোয়া পাঠ এবং শারীরিক স্থিরতা বজায় রাখা জরুরি।



