
স্টাফ রিপোর্টার:
শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেগুন ক্ষেতে পোকার ব্যাপক আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একের পর এক কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকার দমন সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ফলন ও লাভ—দুটোই কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে বেগুন চাষিদের।
উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার কীটনাশক স্প্রে করার পরও লম্বা জাতের বেগুনের ভেতরে পোকা ঢুকে পড়ছে। ফলে অতিরিক্ত খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আগে যেসব ওষুধ ব্যবহার করলে সহজেই পোকার দমন হতো, এখন সেগুলো আর কার্যকর হচ্ছে না। তার ধারণা, দীর্ঘদিন একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পোকাগুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে।
আরেক কৃষক আমিরুল বলেন, তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস বেগুন চাষ। কিন্তু এবার পোকার আক্রমণে অধিকাংশ বেগুনের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমি থেকে বেগুন তোলার পর দেখা যায়, চারটির মধ্যে প্রায় তিনটিতেই পোকার ক্ষতি রয়েছে। ফলে বাজারে ভালো দাম পেলেও প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না।
কৃষক সেকেন আলীর অভিযোগ, বাজারের কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনে ব্যবহার করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাতে কোনো সুফল মিলছে না। কোন পোকার জন্য কোন ওষুধ কার্যকর—সে বিষয়ে অধিকাংশ কৃষকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই।
স্থানীয় কৃষক জাকির হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে সঠিক পরামর্শ দিলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসত।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান এবং উপযুক্ত বালাই ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সহায়তা পেলে বেগুনের উৎপাদন ও গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব হবে।



