
মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়: নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে দীর্ঘ প্রায় ৫-৬ মাস ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় এক্স-রে সেবা না পাওয়ায় রোগীদের বাইরে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপও বাড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে প্রয়োজন হলেও হাসপাতালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাওয়ার আশায় তারা সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫-৬ মাস ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, দ্রুত এক্স-রে সেবা চালু করা না হলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে হাসপাতালের এক্স-রে সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বল্প খরচে হাসপাতাল থেকেই করতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



