জেলা প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান: জেলা প্রশাসক

মুহাম্মদ জুবাইর: বদলিজনিত কারণে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানের বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মজীবনের অবদান, পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিদায়ী অতিথি গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানের প্রতি গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত একজন সহকর্মী। দায়িত্ব পালনে তাঁর একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান তাঁর কর্মজীবনে এসব গুণের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জেলা প্রশাসনের সহকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বিদায়ী কর্মকর্তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর পরবর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সার্বিক সাফল্য এবং কর্মজীবনের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান কেবল একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং একজন আন্তরিক, সহযোগিতাপরায়ণ ও অভিভাবকতুল্য সহকর্মী হিসেবেও সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর অধীনস্থ ও জুনিয়র সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, স্নেহ, উৎসাহ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ছিল প্রশংসনীয়।
তাঁরা আরও বলেন, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা, তাঁদের উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি কর্মপরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও গতিশীল করে তুলেছেন। তাঁর এ সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ও আন্তরিক আচরণ সহকর্মীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
বক্তারা বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে বলেন, কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে। গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানের মধ্যে এসব গুণের সমন্বয় ছিল। তাঁর বদলিজনিত বিদায় জেলা প্রশাসনের সহকর্মীদের জন্য একদিকে যেমন আবেগঘন মুহূর্ত, অন্যদিকে তাঁর কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বিদায়ী বক্তব্যে গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালীন সময়কে অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। চট্টগ্রামে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত (জামিল) সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদায়ী অতিথি গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সফলতা কামনা করেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



