ক্লুলেস তারেক হত্যার প্রধান আসামি আলো গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-পশ্চিম) চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হাসান তারেক হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলাউদ্দীন প্রকাশ আলো (৪১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আলাউদ্দীন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর ২০২৫) দিবাগত রাতে সিএমপি ডিবি (পশ্চিম)-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপির চকবাজার থানাধীন দামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১২ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ‘এসকফ’ (Codeine Phosphate & Tripolidine Hydrochloride Syrup) উদ্ধার করা হয়।

পাহাড়তলী থানার গত ১৩/১০/২০২৪ তারিখের মামলা নং-১২ (ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) এর ভিকটিম হাসান তারেক (৩৯) হত্যারহস্য উন্মোচনের পর জানা যায়, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আলাউদ্দীন প্রকাশ আলো জানান, তিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী। গত ১০/০১/২০২৪ তারিখে নিহত তারেক তার, শওকত আকবর এবং মোর্শেদ আলম প্রকাশ সোহেলের একটি মাদকের চালান পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন। ওই ঘটনায় আলাউদ্দীন ও মোর্শেদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকার পর জামিন পান। এরপরই তারা তারেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
জামিন পাওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে আলাউদ্দিন, শওকত ও মোর্শেদ চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় এক গলিতে বসে হত্যার নীলনকশা তৈরি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন গত ১১/১০/২০২৪ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় কাজীর দেউড়ি এলাকায় শওকত আকবর, মোর্শেদ ও আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আলাউদ্দীনের শ্যালক সাকিব এবং অপর সহযোগী মোঃ ইকবাল হোসেন বাবু হাটহাজারী থেকে একটি গ্রামীণ সিএনজি নিয়ে কাজীর দেউড়ি এলাকায় পৌঁছান। আলাউদ্দিন ও শওকত তাদের সাথে কথা বলার পর শওকত হত্যাকাণ্ডের খরচ বাবদ আলাউদ্দিনের হাতে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা তুলে দেন।
সকল আসামি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সিএনজিতে ওঠে। এরপর গরীবউল্লাহ শাহ (রাঃ) মাজারের সেজুতি ট্রাভেলস কাউন্টারের সামনে থেকে শওকত তারেককে সিএনজিতে তুলে দেন। সিএনজিটি বায়েজীদ লিংক রোডের নির্জন স্থানে পৌঁছালে আসামিরা নেমে পাহাড়ের আড়ালে যান। সেখানে মোর্শেদ ও সাকিব প্রথমে নাইলনের রশি দিয়ে তারেকের হাত পেছন দিকে করে বেঁধে ফেলেন। এরপর তারেকের গলায় রশি পেঁচিয়ে দু’পাশ থেকে দুইজন টান দিলে অনুমান ২০ মিনিটের মধ্যে তারেকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
তারেকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আলাউদ্দীনসহ অন্যান্য আসামিরা লাশ পুনরায় সিএনজিতে তুলে সিটিগেইট, কালু শাহ মাজার হয়ে সি-বীচ এর রাস্তা ধরে পাহাড়তলী থানাধীন খেজুরতলী রাসমনি ঘাট সংলগ্ন এলাকার লিংক রোডের পশ্চিম পাশে রানীপুকুরপাড় এলাকায় ফেলে দেয়। লাশ গুম করার পর আসামিরা সিএনজিসহ পাহাড়তলী থানার সামনে দিয়ে ওয়াসার কুটুম বাড়ির রেস্টুরেন্টে গিয়ে রাতের খাবার খান। খাবার শেষে আলাউদ্দীন তার হাতে থাকা ২০,০০০/- টাকা থেকে মোর্শেদকে ৫ হাজার, সাকিবকে ২ হাজার, ইকবাল বাবুকে ২ হাজার এবং সিএনজি চালককে ২ হাজার টাকা দেন। টাকা পেয়ে সাকিব (২২) ও ইকবাল হোসেন বাবু (১৯) সিএনজিযোগে হাটহাজারী ফিরে যায় এবং অন্যান্য আসামিরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যায়।



