কেন মানুষ সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ?
ইসলামিক ডেস্ক: মহাবিশ্বের বিশালতায় মানুষের অস্তিত্ব কেন? কেনই বা মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং বান্দার কাছে তাঁর চাওয়া কী—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে মানব সৃষ্টির এই নিগূঢ় রহস্য অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য: ইবাদত ও আধ্যাত্মিক পরিচয়
পবিত্র কুরআনের সূরা আয-যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, “আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” ইসলামি পন্ডিতদের মতে, এই ‘ইবাদত’ কেবল তসবিহ পাঠ বা নামাজ-রোজার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং ইবাদতের প্রকৃত অর্থ হলো—আল্লাহকে চেনা, তাঁর মহিমা অনুধাবন করা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর দেওয়া জীবনবিধান অনুযায়ী নিজের জীবনকে পরিচালিত করা। অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পরিচয় লাভ করা ও তাঁর আনুগত্য করা।
এছাড়া মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে (সূরা বাকারা ২:৩০)। এর অর্থ হলো, পৃথিবীতে ন্যায়বিচার কায়েম করা, ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া এবং অন্যায়কে প্রতিহত করার মাধ্যমে এক শান্তিময় সমাজ গঠন করা।
বান্দার কাছে আল্লাহর চাওয়া
মহান আল্লাহ মানুষের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় কামনা করেন, যার ওপর ভিত্তি করে পরকালীন মুক্তি নির্ভর করে:
১. একনিষ্ঠ ঈমান: আল্লাহর একত্ববাদ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল এবং পরকালের ওপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করা।
২. আনুগত্য ও আমল: নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো মৌলিক ইবাদতগুলো পালনের পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর হুকুম মেনে চলা।
৩. মানবিক ও নৈতিক জীবন: ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত উপাসনা নয়, বরং সামাজিক আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়। সত্যবাদিতা, মানুষের অধিকার রক্ষা (হক্কুল ইবাদ), দয়া এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম।
৪. অনুতাপ ও তাওবা: মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আল্লাহ চান বান্দা যেন তার ভুল বুঝতে পেরে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং নিজের চরিত্রকে সংশোধন (আত্মশুদ্ধি) করে।
জীবনের পরীক্ষা ও আল্লাহর স্বয়ংসম্পূর্ণতা
মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তায়ালা ‘আস-সামাদ’ বা অমুখাপেক্ষী। মানুষের ইবাদতে তাঁর কোনো বিশেষ লাভ নেই এবং অবাধ্যতায় তাঁর কোনো ক্ষতি নেই। বরং মানুষই তার প্রতিটি নিশ্বাসে আল্লাহর করুণার মুখাপেক্ষী। সূরা মুলকের ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পার্থিব এই জীবন মূলত একটি পরীক্ষা—যেখানে দেখা হবে কর্মের বিচারে কে সর্বোত্তম।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষের জীবন কোনো অর্থহীন সফর নয়। বরং স্রষ্টাকে জানা এবং তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী ও পরকাল নির্মাণ করাই হলো মানব জীবনের সার্থকতা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।



