
স্টাফ রিপোর্টার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা,নবীনগর: উপজেলার দুলাল মিয়া, আলমগীর হোসেন, ঈশ্বর বাবু ও শাহ আলম গংদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের ১৭ শতাংশ জমি ভূয়া দলিলের নামে জোরপূর্বক ভোগদখল এবং মাজার দখল সহ পরিচালনার দায়িত্ব হরণ করার অভিযোগ উঠেছে। রতনপুর ইউনিয়নের ভিটি বিশারা গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো: বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছমা নাছরিন (৪০) নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অপরাধ বিচিত্রার সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। তারা হলে- মো: দুলাল মিয়া (৫২), আলমগীর হোসেন (৫০), শাহ আলম (৬০), মানিক মিয়া (৫৯), ঈশ্বর বাবু (৪৫), হাবিবুর রহমান ওরফে ছুটু মিয়া (৫৫), সহ অজ্ঞাত আরো অনেকে।
আছমা নাছরিন বলেন, বিল্লাল হোসেন আমার স্বামী, তিনি একজন সহজ সরল মানুষ, স্বামী শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ, আমার ১ পুত্র ২ কন্যা আছে। আমার শ্বশুর মধু শাহ একজন সাধক বা ফকির ছিলেন, তিনি জীবদ্দশায় দীর্ঘ ৪৫ বছর নিজ তত্ত্বাবধানে ওরস মাহফিল উদযাপিত করে আসছিলে, (মধু শাহ ভার্ধক্যজনিত কারণে বিগত ২০১৮ সালে ইন্তেকাল করেন)। আমার শ্বশুর মধু শাহ ইন্তেকালের আগেই পারিবারিকভাবে “মধু শাহ দরবার” শরীফের পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব আমার স্বামী বিল্লাল হোসেনকে অর্পণ করে যান। অপরদিকে আমার শ্বশুর মধু শাহ জীবিত অবস্থায় আমার বড় ভাসুর দুলাল মিয়া, আমার শ্বশুর অর্থাৎ তার বাবার কর্তব্য দায়িত্ব, সেবা যত্ন কিছুই পালন করেননি, তিনি তার পরিবার নিয়ে আলাদা অন্য ঘরে বসবাস করতেন।
এমনকি আমার শ্বশুর মধু শাহ, বড় ভাসুরের দেওয়া কোন খাবারো গ্রহণ করেননি কখনো, কারণ দুলাল মিয়ার আচার-আচরণে ক্ষুদ্ধ ছিলেন তার বাবা আমার শ্বশুর মধু শাহ)। মধু শাহ এর ওফাত অর্থাৎ (২০১৮ সালে) ইন্তেকালের পর থেকে ৩ বছর আমার স্বামী বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় বার্ষিক ওরস ২০২১ ইং সালের ফেব্রুয়ারীর ১৩-১৪ ও ১৫ তারিখের ওরস পর্যন্ত সুনামের সাথে চলে আসছেন। হঠাৎ করে দুলাল মিয়া ও আলমগীর হোসেন এবং শাহ আলম গংরা ষড়যন্ত্র করে ভক্তদের ওরসে আসা, মান্নতের জিনিসপত্র মসলা সামগ্রী তাদের দলীয় লোকদের মাধ্যমে বিক্রি করে আমার আমার স্বামীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বড় ধরনের ফেতনা সৃষ্টি করে সরাসরি আমার স্বামী বিল্লালকে দোষারোপ করেন। একই সাথে
মধু শাহ দরবার শরীফের ভাঙ্গন সৃষ্টি করেন, মূলত এখান থেকেই বিবাদীদের সাথে আমাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আছমা নাসরিন আরো বলেন, মূল ঘটনা হলো- আমার শ্বশুর মধু শাহ ৩৮৭ দাগে ৩৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে দুই ছেলের নামে, অর্থাৎ আমার স্বামী বিল্লাল মিয়া এবং আমার বড় ভাসুরের নামে দলিল করে দেয় (কিন্তু জমি পৃথক বা আলাদা কারো নামে ভাগ বন্টন করে দেওয়া হয়নি)। কিন্তু ওই জমির পূর্ব পাশ থেকে বিগত (১৭-০৩-১৯৯১ ইং) সালে আমার বড় ভাসুর দুলাল মিয়া, আমাদেরকে না জানিয়ে অতি গোপনে তার আপন চাচা সেতু মিয়ার সাথে (সাড়ে ৮-শতাংশ) জমি এওয়াজ বদল করেন। বিষয়টা আমরা জানতে পারি ২০২১ ইং সালে, পরবর্তীতে আমার স্বামী বিল্লাল মিয়া উক্ত জমির পশ্চিম পাশ থেকে ১৩ শতাংশ আমাদের সন্তান আয়মান এর নামে হেবা দলিল করে দেন ২৪-০৩-২১ ইং সালে। প্রকাশ থাকে যে, পুনরায় বিবাদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আমার ভাসুর দুলাল মিয়ার নেতৃত্বে, আমার স্বামী কর্তৃক সন্তান আয়মানকে (হেবা দলিল) করে দেওয়ার ৭ মাস পর (০৫-১০-২১ ইং) সালে গোপনে মাজারের নামে (সাড়ে ৮ শতাংশ) জমি ওয়াকফ করেন।
দুলাল মিয়ার সাথে ষড়যন্ত্রে যারা ছিলেন- মাজারের ভূয়া সভাপতি আলমগীর হোসেন, শাহ আলম, মানিক, ঈশ্বর বাবু। তারা দাবি করেন, মাজারের জমি সহ মাজার আমাদের, এখানে বিল্লাল ও তার বোনরা সহ পরিবারের কেউ আসতে পারবে না, তারপরও মাজারে গেলে জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। শাহ আলম এর ছোট স্ত্রী রমিজা, আমাকে এবং আমার ননদ হেনা আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করেন। এরকম আমাদের সাথে বার বার অন্যায় ও প্রতারণা, মারপিট, হুমকি-ধামকি এবং প্রাণনাশের ভয়-ভীতি সহ নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে (০১-১০-২১ ইং) সালে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করি, কিন্তু সেখানেও বৈষম্য শিকার হয়েছি, বিবাদী দুলাল মিয়া ও শাহ আলম গংরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে থানা ম্যানেজ করে ফেলেন।
পরবর্তীতে বিগত (০৫-০২-২৫ ইং সালে দুলাল মিয়া ও আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে শাহ আলম, মানিক মিয়া, হাবিবুর রহমান ওরফে ছুটু মিয়া গংরা মাজারের পাশের গাছ কাটতে আসলে আমরা বাধা দিলে, আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে মারপিট ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন, এমনকি জখম-খুন করারও হুমকি প্রদান করেন। তাদের বিরুদ্ধে আমার স্বামী বেলাল হোসেন বাদী হয়ে, মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদেরকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২৩২/২৫)-(ধারা-১৪৪/১৪৫)। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬-১০-২৫ ইং তারিখে (২৭০৫/১ (৫) স্মারকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্রাহ্মণবাড়িয়া (এহসান মুরাদ) স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারির প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য দাখিলকৃত রিপোর্টে, আমার ভাসুর দুলাল মিয়া, ১৯৯১ সালে আপন চাচা সেতু মিয়ার সাথে যে, গোপনে সাড়ে ৮ শতাংশ জমি এওয়াজ বদল করেছেন, এই বিষয়টি রহস্যজনকভাবে আদেশনামার প্রতিবেদন রিপোর্টে আসেনি।
অপরদিকে বর্তমানে মাজারের দখলে সাড়ে ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে সেটিও প্রতিবেদন রিপোর্ট আসেনি, কেন আসেনি! আমরা পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন চাই। তবে (২৩২/২৫ মামলার বিজ্ঞ আদালতের স্মারক নং ৩৫২ তারিখ ০৬/০২/২৫ ইং), নবীনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন (01819624816) এর বিগত ২৯/০৩/২৫ ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্টে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, আমার ভাসুর দুলাল মিয়া, ১৯৯১ সালে আপন চাচা সেতু মিয়ার সাথে যে, গোপনে সাড়ে ৮ শতাংশ জমি এওয়াজ বদল করেছেন। এসআই মহিউদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদনে লিখেন, মধু শাহ এর মৃত্যুর পর আপন ছোট ছেলেকে মাজার দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। মৃত: পিতার অর্পিত দায়িত্ব দেখাশোনা করার সময় বিল্লাল মিয়ার আপন বড় ভাই-দ্বিতীয় পক্ষের দুলাল মিয়া মাজারের পূর্বাংশের জায়গা তাহার আপন (জেঠা) চাচার নিকট এওয়াজ বদল করেন। আলমগীর হোসেন লোভের বর্শবর্তী হইয়া অন্যান্য বিবাদীগণ সহ মাজারের অন্যান্য তফসীলুক্ত জায়গা জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা করেন এবং ঘটনার তারিখ ও সময় গত ৫/২/২৫ তারিখে, দুলালের নেতৃত্বে সকল বিবাদীগন মাজারের গাছ গাছালি কাটিয়া নেওয়ার চেষ্টা করিলে, বাদী বিল্লাল হোসেন বাধা প্রদান করিলে- বিবাদীগণ তাকে মারধর করিতে উদ্যোক্ত হয়। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় পক্ষগণ যেকোনো সময় মাজারসহ মাজারের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করিলে, তথায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।
পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়ালি ম্যাজিস্ট্র প্রথম আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়- আলমগীর হোসেন, পারভেজ, দুলাল মিয়া, হাবিবুর রহমান ওরফে ছুটু মিয়া সহ আরো অজ্ঞত ৪/৫ জন আসামী করে, একটি মামলা দায়ের করি (সিআর দ্রুত বিচার মামলা নং ৬২৭/২৫ ইং, তারিখ: ১০-১১-২৫ ইং (ধারা: আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫। উক্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নবীনগর থানার এসআই খন্দকার মো: আজাদুল ইসলাম এর তদন্ত প্রতিবেদনে আসামীদের বিরুদ্ধে আমার সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, আলমগীর হোসেন, পারভেজ, দুলাল মিয়া, হাবিবুর রহমান ওরফে ছুটু মিয়া শক্তির মহড়া দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং বাদিনীর স্বামীকে মারধর করে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে মর্মে প্রথমিক তদন্তে প্রতিমান হয়। যা আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারা মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে। মামলা দুটি আদালতে চলমানা আছে- অপরদিকে ২০২৫ ইং সালের ১৫ জানুয়ারী নবীনগর থানার তৎকালীন ওসি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, নিজ দায়িত্বে উভয় পক্ষকে ডেকে মাজার পরিচালনা করার জন্য ১ বছর মেয়াদি একটি কমিটি গঠন করে দেন, থানায় বসে কমিটি মানলেও, থানার বাহিরে এসে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতন ও জোরপূর্ব আমার স্বামীর থেকে দায়িত্ব ছিনিয়ে নিয়ে, মাজার পরিচালনা করেন- দুলাল, আলমগীর হোসেন, শাহ আলম গংরা। বিস্তারিত অভিযোগ সত্য, এ মর্মে আমার জমির দালিলিক কাগজপত্র এবং এলাকার সাক্ষী আছে, আমি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার চাই, মোবা: ০১৭৩৮৯৫৪৩৫৯। (জমির তফসিল ও চৌহদী: মৌজা- ভিটি বিশারা, জে,এল নং- ১১৪, খতিয়ান নং-৩৬৮,সে: মে: ৩৮৭ দাগের অর্ধাংশ ১৭ শতক পর্চা হয়। চৌহদী: উত্তরে- হালিম, দক্ষিনে মধু মিয়া, পূর্বে- দুলাল, পশ্চিমে- প্রথম পক্ষ বিল্লাল)।



