কভিড-১৯ দেশে পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাপান-কোরিয়া

0
176

বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে জাপান ও কোরিয়া। দেশে পরীক্ষা চালিয়ে করোনা নেগেটিভ পাওয়া কয়েকজনের পরীক্ষা চালিয়ে ফলাফল পজিটিভ পেয়েছে দেশ দুটি। এ কারণে দেশ দুটিতে বাংলাদেশী নাগরিকদের গ্রহণের বিষয়ে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,  তথ্যমন্ত্রী, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী,  মন্ত্রিপরিষদ সচিব,  প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ জাতীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশী কিছু নাগরিকের কভিড-১৯ পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্টসহ তাদের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর আবার পরীক্ষা করে তাদের মধ্যে কয়েকজনের পজিটিভ এসেছে। ফলে এসব দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের গ্রহণে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় করোনা পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বলে সভার কার্যবিবরণীতে উঠে এসেছে।

জানা গিয়েছে, গত এপ্রিলে জাপান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ভাড়া করে তিন-চারটি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে। ওইসব ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীদের বাংলাদেশে পরীক্ষা চালিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু জাপান যাওয়ার পর পরীক্ষা করলে তাদের মধ্যে চারজনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে মে মাসের প্রথমদিকে শর্ত আরোপ করে দেশটি। এ কারণে বাংলাদেশী কোনো নাগরিক এখন জাপানে যেতে পারছেন না।

একই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়াগামী চার্টার্ড ফ্লাইটের আরোহী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পরীক্ষা চালিয়ে এসব যাত্রীর সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় পরীক্ষা চালিয়ে পাঁচজন সংক্রমিতকে শনাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বণিক বার্তাকে বলেন, জাপান সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ চার্টার্ড করে। সেই উড়োজাহাজে যাত্রী কারা তা ঠিক করেছে ঢাকার জাপান দূতাবাস। সেখানে আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। কোন যাত্রী যাবে, কী নিয়মে যাবে তারাই ঠিক করেছে। কিন্তু জাপানে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে চারজনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। আমরা জানি না তারা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়েছিল কিনা।

তিনি বলেন, পরে তারা অনেক দেশের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সে তালিকায় বাংলাদেশও আছে। তবে তারা কখনো আমাদের দোষারোপ করেনি। কারণ যাচাই-বাছাইয়ের সব দায়দায়িত্ব ঢাকার জাপান দূতাবাসের ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও চার্টার্ড ফ্লাইট গিয়েছে। নামার পর পরীক্ষা করে সেখানেও পাঁচজন পজিটিভ পাওয়ার কথা শুনেছি। এ ফ্লাইটেও যাত্রী হিসেবে কারা যাচ্ছে, সেসব করেছিল যারা চার্টার্ড করে সেই প্রতিষ্ঠান। সেখানেও আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। তবে কভিড টেস্টের ক্ষেত্রে আমাদের এখনো কোনো স্ট্যান্ডার্ডাইজ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ফলে মে মাসের শুরুতে যে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল, তা এক মাসের ব্যবধানে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে মোট সংক্রমণের ৮৫ শতাংশই ঘটছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকার। ফলে কভিড-১৯ মোকাবেলায় শহরগুলোর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অতিগুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠক চলাকালে পোশাকসহ অন্য শিল্প খাতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের সংক্রমণ পরীক্ষায় শিল্প মালিকরা টেস্ট ফ্যাসিলিটি স্থাপন না করায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ওই সভায় বলেন, বিজিএমইএকে শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা চালুর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

সভায় আলোচনা শেষে কভিড-১৯ পরীক্ষার সুবিধা সম্প্রসারণ ও পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া পোশাক শিল্প শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও নমুনা পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আইসোলেশন সেন্টার ও হাসপাতালের ব্যবস্থা করার জন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএকে জোর তাগিদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সহসভাপতি এমএ রহিম (ফিরোজ) বণিক বার্তাকে বলেন, ৪ জুন আমাদের একটি টেস্টিং সেন্টার চালু হয়েছে। আরো তিন-চারটি টেস্টিং ফ্যাসিলিটি চালুর পরিকল্পনা আছে। টেস্ট সুবিধাসংক্রান্ত অবকাঠামোগত কিছু বিষয় আগামী ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। পরীক্ষা করা হচ্ছে না এটি ঠিক নয়। শ্রমিকদের পরীক্ষা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে পরিমাণ আরো বাড়বে। আমাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শ্রমিকরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল সুবিধা নিশ্চিতে আমাদের নিজস্ব কিছু উদ্যোগ সমঝোতা পর্যায়ে রয়েছে। এখন আমরা শিল্প ও শ্রমঘন বিভিন্ন স্থানে নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করছি।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + 18 =