দুর্নীতিতে বেসামাল পৌর মেয়র খোকন

0
482

মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, কারও মুখের দিকে তাকানো হবে না; যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে। আমরা দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে যোগ করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী দিনের বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই সেটার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি।বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন একটা বিস্ময়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যার সঙ্গেই দেখা হয় জিজ্ঞেস করে কীভাবে এত উন্নয়ন করলাম।’মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন ঐক্যান্তিক প্রচেষ্টাকে ধুলিসাৎ করে দিতে একধরনে ইঁদুরের আবির্ভাব ঘটেছে। এসব ইদুঁরেরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন গুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। দুর্নীতি করে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। এসব ইদুঁরের মধ্যে ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন অন্যতম। পৌরমেয়র হওয়ার পর থেকে দুর্নীতি করা যেন তার পেশায় পরিনত হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লোপাট, জমি দখল, শালিস বানিজ্য, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের লালন পালন সহ পৌরসভার ত্রাসের রাজত্ব বানিয়ে রেখেছেন। মেয়র খোকনের বহুমুখী অপকর্ম নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।

পৌর মার্কেট দোকান বরাদ্দের অন্তরালে কোটি টাকার বানিজ্য:

সোনাগাজী পৌরসভার কাঁচা বাজারের ২টি স্থানে ২টি মার্কেট নির্মাণের অনুমোদন হয় আগের পরিষদের ঐক্যান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রমে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন মেয়র খোকনের সময় নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং দোকান বরাদ্ধ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় মেয়র বিভিন্ন দোকানদারদের কাছ থেকে দোকান প্রতি ১০/১২ লক্ষ টাকা নিয়ে সরকারী কোষাগারে মাত্র ৩ লক্ষ  টাকা করে জমা দেন। দোকানদারদের সাথে কথা বললে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। ৮৩টি দোকানের সব কটিতে ৭/৮ লক্ষ টাকা করে হাতিয়ে নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ২টি রুম তার ছোট ভাই মিজানকে বরাদ্দ দেয় । এ ছাড়াও সে বিধি বহির্ভূত ভাবে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও ৯৯ বছরের জন্য ৩শ টাকার ট্রাম্পে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দেয়।

 পৌরসভার গাড়ী ক্রয়ে দুর্নীতি:

মিনিষ্ট্রির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র এবং বিধি নিষেধ না মেনে প্রগতি ইন্ডাট্রিজ থেকে স্পোর্ট পাজেরো গাড়ীর পরিবর্তে ব্যক্তির কাছ থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ীটি মাত্র ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে অতিরিক্ত দাম দেখানোর জন্য চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট শো-রুম থেকে অবৈধ ভাবে গাড়ী ক্রয়ের রশিদ সগ্রহ করেন মেয়র খোকন। তাও আবার ঠিকাদারদের উন্নয়ন কাজের জামানতের টাকা তুলে গাড়ীটি ক্রয় করেন। গাড়ী  ক্রয়ের ভাউচার  দেখলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

এডিবির বরাদ্দ হরিলুট:

বছরে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত এডিবি ফান্ডের প্রায় ১ কোটি টাকা। আবার কখনো কখনো স্পেশাল বরাদ্দ ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনে বিভিন্ন বাড়ীর রাস্তা গুলোতে নামমাত্র উন্নয়ন কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যে বাড়ীর কাজ গুলো এডিবির টাকা দিয়ে উন্নয়ন করেছেন সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে অনেক গুলো অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যাবে না। দুই একটা পাওয়া গেলেও অবস্থা দেখে অনুমান করা যাবে কাজের মান কেমন হয়েছে।

বাজার মার্কেট স্ট্যান্ড ইজারা:

বাজার, মার্কেট, পরিবহন স্ট্যান্ড গুলো ইজারা প্রদানের সময় প্রকৃত ইজারামূল্য দেখা হয় না। কম মূল্যে নিজের ভাই সহ আত্বীয় স্বজনদেরকে ইজারা প্রদান করেন। সেখান থেকেও হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। আবার রাজস্ব আদায় কম দেখিয়েও আত্মসাৎ করেন টাকা। 

সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি:

সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মোঃ রফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম খোকন ও রফিকুল ইসলাম নামে এবং স্ত্রী তসলিমা কাওছারের নামে কোটি কোটি টাকা জমি কিনে রেজিষ্ট্রি করেন। উক্ত জমিগুলো বাজার মুল্য কোটি কোটি টাকা। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রির সময় অধিক পরিমানে রাজস্ব দেয়া লাগবে বিধায় মেয়র জমির মুল্য কম দেখিয়ে সীমিত টাকায় জমি রেজিষ্ট্রি করেন।  উল্লেখ্য যে , তার নিজ নামে ক্রয়কৃত জমি নাজমুল হুদা চৌধুরীর স্ত্রী রহিমা নুর চৌধুরীর কাছ থেকে ক্রয়কৃত সোনাগাজী পৌরসভায় ৫নং ওয়ার্ড এর তুলাতলী মৌজায় ৮৮৯ খতিয়ানের ২৪ ডিং জমির বর্তমান মূল্য ৫ কোটি টাকার অধিক হলেও সে জমি রেজিষ্ট্রি করতে ৪৪১২/১৮ নং দলিলে মূল্য দেখায় মাত্র ১০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা । এছাড়াও এই জমির খতিয়ানে জমির শ্রেণী নাল উল্লেখ থাকলেও মেয়র খোকন তার স্ত্রী তসলিমা কাওছারের কাছ থেকে নিজ নামে ছাপ কবলা করতে রেজিষ্ট্রি খরচ কমাতে জমির শ্রেণী উল্লেখ করেন ডোবা হিসেবে। নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করার সময় জমা খারিজ খতিয়ানে থাকা নাল হিসেবে জমির শ্রেণী নির্ধারণ করেন। এভাবেই সে প্রতিটা দলিলে এরকম নানা দূর্ণীতি করে ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও সরকারের সাথে প্রতারণা করে আসছেন।

পৌরসভার নামে জমি ক্রয়ে দুর্নীতি:

পানির ট্রাংক করার নামে পৌরসভার নাম বলে বখরিয়া এলাকায় ২০ডিং জমি ৪০ হাজার টাকা করে কিনে  ৮০হাজার টাকা করে মূল্য দেখায় এবং দলিল ও রেজিষ্ট্রি খরচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা দেখিয়ে দলিল লেখক জনৈক মোশারফ হোসেন মিলনকে ৭লাখ টাকা প্রদান করে চরম দূর্ণীতি করেন। জমির মূল্য যেখানে সব মিলিয়ে ১৪ লাখ টাকা হওয়ার কথা সেখানে রেজিষ্ট্রি খরচ বাবদ ৭লাখ  টাকা হওয়া নিশ্চিত দূর্ণীতি ছাড়া কিছুই নয়।  আবার এটাও শুনা যায় যে , এলাকা উন্নত হওয়ায় এবং জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় জমির দলিলকৃত মূল্য পৌরসভাকে দিয়ে নাকি মেয়র জমি গুলো নিজের নামে করে নেয়।

পৌরসভার লোক নিয়োগে ঘুষ বানিজ্য:

খোকন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে  পৌসভায় লোকবল সংকট দেখিয়ে মাষ্টারোলে ৯ জন ষ্টাফ নিয়োগ দেন। বি.এন.পি ঘরনার এই ৯ জনের কাছ থেকে জন প্রতি নিয়োগ বাবদ ৭/৮ লক্ষ টাকা করে নেয় এবং অত্যান্ত গোপনীয় ভাবে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে । একারনে ফেনী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতিনিধি সোনাগাজী উপজেলা তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন সুলতান উক্ত নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেননি । চতুর মেয়র ঐ খালিস্থান পূরণে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন এর স্বাক্ষর অনেক বড় করে দিয়ে খালি জায়গা পূরণ করে চোখে না পড়ার মতো করে অনিয়মটা জায়েজ করেন।

প্রকল্পের টাকা লোপাট:

মেয়র নামে বেনামে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল হালিম মামুন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ কলিম উল্যাহ রয়েল , ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইয়ুব আলী খান ও সংরক্ষিত ১,২,৩ নং কাউন্সিলর মনিহারের নামে বিভিন্ন অংকের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোন কাজ না করে তাদেরকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে বেশীর ভাগ টাকা গুলো মেয়র হাতিয়ে নিয়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রেজিষ্ট্রার দেখে প্রকল্প গুলো সরেজমিনে তদন্ত করলে  বাস্তবে এর অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যাবে না।

টেন্ডার ও সংস্কার বাণিজ্য:

 পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়র বিভিন্ন লাইসেন্সে গোপন টেন্ডার কার্যক্রম করে শত কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন। ১ বছর অথবা ৬ মাস পরে গোপনে ওয়ার্ক অর্ডার বানিয়ে কাজ গুলো সে নিজেই ঠিকাদারী করেন।  কেউ টেন্ডারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলে এই গুলো আগের বছরের টেন্ডার হওয়া কাজ। এরপর সে নাম মাত্র কাজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় । এমনকি একটি রাস্তা একই সময় ২ বার টেন্ডার দেখানোর মত অনিয়ম এবং টেন্ডার ও সংস্কার একসাথে দেখানোর মত অপরাধও করেন। একই নামের একই দূরত্বের একই সড়কের দুই মাথায় ২টি নাম ফলক লাগিয়ে ২ বার উদ্ভোধন করে ডাবল টাকা নেওয়ার অভিযোগও আছে অনেক। যার কারণে পৌরসভার তালিকাভূক্ত সকল ঠিকাদারী লাইসেন্স গুলো মেয়াদকালে কেউ নবায়ন করেনি। কারণ মেয়র খোকনের মেয়াদে বিভিন্ন লাইসেন্স পৌরসভার সকল কাজের একমাত্র ঠিকাদার মেয়র নিজেই। এছাড়া পৌরসভার সকল গাড়ী , ট্রাক ও রুলার তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন সব সময়। মাঝে মাঝে ভাড়া দিলেও টাকা জমা হয় না। মেয়র ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা গুলো তার পকেট ভারী করেন।

জমি দখল ও শালিস বাণিজ্য:

জমি দখল ও শালিস বাণিজ্যে মেয়রের জুড়ি মেলা ভার, সে মেয়র হওয়ার পর থেকে দলীয় পদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়রের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বাড়ী, বাড়ীর দরজায় বিভিন্ন লোকের কেনা ও পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে নিয়েছেন। তার বসত ঘরের সামনে সোনাপুর নিবাসী ইসমাইল নেতার বাড়ীটি সৌদি প্রবাসী সবুজ গং এর তার ভগ্নীপতি আবদুল মোতালেব হারুন এর কাছ থেকে ৪৬লক্ষ টাকায় কেনা জমিটি দখল করে নেন। চর খোয়জি নিবাসী তোতা মেম্বারের এলাকার জনৈক নুর নবী নামক ব্যক্তির চর খোন্দকার এলাকার ১৭ একর জমির মধ্যে ৩একর কেনার নাম করে মাত্র ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে হাতিয়ে নেয়। যার কারণে নুর নবী এখন মানসিক রুগী হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়।  সে যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে তার কারনে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে করে হুমকি প্রদান সহ তার কাছ থেকে জোর করে সাদা ট্রাম্পে স্বাক্ষর ও খালি চেক নেয় যা রীতিমত ফৌজধারী অপরাধ । এরকম অসংখ্য নজির দৃশ্যমান । কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।

পৌরসভার লোকবলকে নিজ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার:

পৌরসভার লোকবলকে নিজ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও পৌরসভার লোকবল বিশেষ করে অসখ্য সুইপার ও নাইট গার্ড নিয়োগ দিয়ে সরকারী কাজের পরিবর্তে মেয়র নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে। তার বাড়ীর কাজ কর্ম সহ তার মৎস্য প্রকল্প ও গরুর খামারের বিভিন্ন কাজে এদের সব সময় ব্যবহার করতে দেখা যায়। নাইট গার্ড গুলোকে তার বাড়ী, খামার পাহারাদারের কাজে ব্যবহার করে পৌরসভা থেকে তাদের বেতন পরিশোর করেন।  যা রীতিমত অন্যায় ।

প্রকল্পে নির্মাণ অনুমোদন:

নির্মাণ অনুমোদনে মেয়র নিজেই একা, তার ইচ্ছা মত সরকারী বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে ১ তলা ৫০ হাজার, ২তলায় ১ লাখ,৩তলা আড়াই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের কোন রশিদ প্রদান করা হয় না। মেয়র নিয়ম অনুযায়ী কিছু টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে বেশীর ভাগ টাকাই তার পকেটে ভরেন। এমনকি বেশীর ভাগ অনুমোদন কাজে স্থানীয় কাউন্সিলরদের সুপারিশ নেওয়া হয় না। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ অনুমোদনে স্থানীয় কাউন্সিলরের স্বাক্ষর করা সুপারিশপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্মাণ অনুমোদনের ফাইল গুলো তলবে করলেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

৬মাসে ৩৬ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেন মেয়র খোকন

রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ৬মাসের ব্যবধানে ৩৬ কোটি টাকার জমি ক্রয় করে এলাকা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক জনতা, অনলাইন জি.এস নিউজ, খবর প্রতিদিন ও বাংলার দর্পন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তথ্যবহুল এই প্রতিবেদনের আলোকে তদন্তপূর্বক বিহীত ব্যবস্থা গ্রহন প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগে আলোকে জানা যায়, মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর নিজের নামে ও স্ত্রী তাছলিমা কাউছার এর নামে নি¤œবর্ণিত দলিলমূলে ৩৬ কোটি টাকার অধিক মুল্যের জমি ক্রয় করেছেন।

৩৬৮৫/১৬ নং দলিলে ১.৮৮ শতাংশ, ৪৯৫১/১৬ নং দলিলে ২.৫০ শতাংশ, ৫২৮৪/১৬ নং দলিলে ২০ শতাংশ, ৬৩৮৯/১৬ নং দলিলে ৪.১২ শতাংশ, ২৯৭২/১৭ নং দলিলে ১৩৫.৫ শতাংশ, ১৫৫৯/১৮ নং দলিলে ১২০ শতাংশ, ১৫৬০/১৮ নং দলিলে ৯ শতাংশ, ২০১৮/১৮ নং দলিলে ৫৪ শতাংশ, ২৪০৮/১৮ নং দলিলে ৮১ শতাংশ, ৪৪১২/১৮ নং দলিলে ২৪ শতাংশ, ৫৪৫৯/১৯ নং দলিলে ১৩.৭ শতাংশ, ১১৭৬/১৯ নং দলিলে ৫০৬ শতাংশ, ৩৯৩১/১৮ নং দলিলে ৬৮২ শতাংশ, ৫৩৮০/১৮ নং দলিলে ১০০ শতাংশ, ৫৯৮২/১৮ নং দলিলে ৪৫৩ শতাংশ, ৬১৮৫/১৮ নং দলিলে ৮৫ শতাংশ, ১৭০০/১৯ নং দলিলে ৩০ শতাংশ,২৩৪৯/২০ নং দলিলে ১২৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উপরোক্ত বিবরনী ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আলোকে সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন ও তার স্ত্রীর কোন দৃশ্যমান আয় না থাকা স্বত্বেও কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করেন। এতেই দৃশ্যমান হয় যে তার দুর্নীতির হাত কতটা লম্বা।

অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক হানিফ গাজীকে মারধর ও প্রাননাশের হুমকি

মেয়র খোকনের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে  সাপ্তাহিক ফেনীর ডাক ও দৈনিক বাংলার অধিকার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মোঃ হানিফ গাজী। উক্ত সংবাদের জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে প্রাননাশের হুমকি দেয় মেয়র খোকন। এবিষয়ে জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় জিডি করেন ওই সাংবাদিক। জিডি নং-৪৫৭/১৯, তারিখ-১৩ এপ্রিল-২০১৯।

জিডিতে সাংবাদিক হানিফ গাজী বলেন, আমি ফেনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ফেনীর ডাক, দৈনিক বাংলার অধিকার নামক পত্রিকায়  সোনাগাজী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম , সোনাগাজী শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছি। ১৩ এপ্রিল-২০১৯ তারিখে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন আমাকে তার মোবাইল থেকে কল করে তার ডেকে নেন এবং তাৎক্ষনিক আমি ঐ অফিসে উপস্থিত হলে আমাকে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করিয়া বলেন ১২ এপ্রিল-২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সোনাগাজী উপজেলা শাখা কর্তৃক মিডিয়াতে দেওয়া প্রেস রিলিজ এর বিরুদ্ধে কেন সংবাদ প্রকাশ করিয়াছি ? তখন আমি উত্তরে বলি, প্রেস রিলিজের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ভুল রয়েছে।

তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তুই কি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ? তুই আমাদের দলীয় বিষয়ে ভুল ধরার কে? এই কথা বলার পর পরই তিনি এবং তার সহযোগী টুইংকেল মিলে আমাকে কিল, ঘুষি মারিয়া শারীরিক ভাবে আঘাত করে এবং হুমকি দিয়া বলে তুই ভবিষ্যতে এই ধরণের আমাদের দলীয় বিষয়ে কোন প্রকার প্রচার করিলে তোকে আমি প্রাণে মেরে ফেলব। তাহারা আমাকে অফিস থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেয়। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমার আত্মীয়স্বজন ও আমার পাশাপাশি সাংবাদিক ভাইদেরকে অবহিত করিয় রাখি। তাই নিরুপায় হইয়া আমার জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার থানায় উক্ত বিষয়ে জি.ডি এন্ট্রি দায়ের করিলাম।

নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে মেয়র খোকনের সন্ত্রাসী হামলা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ এর প্রার্থী সৈয়দ দীন মোহাম্মদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে মেয়র খোকন ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন বিটু সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এঘটনায় সৈয়দ দীন মোহাম্মদ বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩২৫, তাং-২৪ মার্চ-২০১৯।

মামলার অভিযোগে সৈয়দ দীন মোহাম্মদ বলেন, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনকালে সোনাগার্জী পৌরসভার জিরোপয়েন্টে  মেয়র খোকন ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন বিটুর নির্দেশে ২০/৩০ জনে একটি সন্ত্রাসী দল ২৪ মার্চ-২০১৯ তারিখে আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করিয়া  চেয়ার টেবিল ভাংচুর ও পোস্টার ছিড়ে ফেলে । তাহাদের হামলার কারণে আমার কার্যালয়ে থাকা লোকজন ভয়ে পালিয়ে যায়। উপরে বর্ণিত বিবাদীগণ বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে এবং গোপনে আমার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ সহ বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করে। আমি তাহাদের কথায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় তাহাদের নির্দেশে আমার অফিস, প্রচারণার গাড়ি ও আমার লোকজনের উপর হামলা করে। আমি প্রান শংকায় দিন কাটাচ্ছি।

‘সোনাগাজীতে সড়ক উন্নয়নের নামে মেয়র খোকনের তুঘলকি কান্ড’

ফেনী জেলার সোনাগাজী পৌরসভায় সড়ক উন্নয়নের নামে ব্যাপক হরিলুট চালিয়েছে সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।  পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (আইইউডিপি-২) আওতায় প্রায় ১০কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে মেয়র খোকন এই বিষয়টিকে কাল্পনিক ও একটি চক্রের অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যসুত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলার নজরুল প্রাইমারি সড়ক উন্নয়নের জন্য সড়কের দক্ষিণ প্রান্তে ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৯১৪.৪২৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পৌরসভার অর্থায়নে ৬০০মিটার নজরুল প্রাইমারি সড়কটি নির্মাণের জন্য ফেনী মাস্টারপাড়ার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। একই সড়কের অপর প্রান্তে থেকে ১২০ মিটার নির্মাণের জন্য ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৭.৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই সড়ক নির্মাণের জন্য শহরের বারাহীপুরের মেসার্স রফিকুল হক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। সড়কের উভয় পাশেই কাজের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন।  এভাবে একই সড়কে দু’বার নেমপ্লেট ব্যবহার করে সড়ক উদ্বোধন নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে খোদ এই  মেয়রের বিরুদ্ধে।

এভাবে ছয়টি সড়ককে দু’দিক থেকে নির্মাণ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজের পকেটে ভারী করেন। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূঞাপাড়া সড়ক উন্নয়নের জন্য ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৪০.৫৭৮ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ১২৯ মিটার ভূঞাপাড়া সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য মাস্টারপাড়ার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেয়া হয়। ওই সড়কের নেমপ্লেট লাগিয়ে উদ্বোধন করার দু’দিন পর এলাকাবাসী নেমপ্লেটটি তুলে ফেলেন। শহীদ নুরুল হক ফরাজি সড়ক উন্নয়নের জন্য ৯৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৪.৪৭৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৮০৫ মিটার এ সড়কটির কাজ দেয়া হয় বারাহীপুরের মেসার্স রফিকুল হক নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। পোস্টমাস্টার সড়ক উন্নয়নের জন্য ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৪২১.৪২৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

৬০০মিটার এ সড়কটির কাজ দেয়া হয় মেসার্স চৌধুরী নিহা এন্টারপ্রাইজকে। আবার ২০০মিটার পোস্টমাস্টার সড়কটি নির্মাণের জন্য ৬১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৮.২৩৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কাজটিও দেয়া হয়েছে মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজকে। এভাবে একই সড়কে দুইবার নেমপ্লেট লাগিয়ে উন্নয়নের নামে টাকা আত্মসাতের হিড়িক পড়েছে সোনাগাজী যায় পৌরসভায়। এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজ সড়ক উন্নয়নের নামে ৭৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৩.১৯ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

কলেজ গেট থেকে তুলাতুলী পর্যন্ত ৭৫৬ মিটার সড়কের জন্য ৭৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ সড়কের কাজ দেয়া হয় মিজান রোডের মেসার্স হাসানুজ্জামান ভূঞা নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজ সড়কের নামেও দুটি প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তুলাতলি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের জন্য ৯০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৪০ মিটার এ সড়ক নির্মাণের জন্য কাজ দেয়া হয়েছে কদলগাজী রোডের মেসার্স চৌধুরী নিহা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। শেখপাড়া ৩০০মিটার সড়কের জন্য ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বক্স আলী ভূঞা সড়কের জন্য ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

সড়কগুলো করার ক্ষেত্রে ওয়ার্ক অর্ডার না মানা ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগও রয়েছে। সড়কে ব্যবহার করা এবং সড়কের পাশে জমানো ইটের সবই তিন নম্বর, পুরনো ও পুরনো পাইলিং ভাঙা পাথর। প্রতিটি সড়ক ঢালাই হওয়ার কথা রয়েছে ১২০ এমএম থেকে ১৫০ এমএম। এতে রডের নেট ছিল ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি ফাঁকা। সেখানে রডের নেট বসানো হয়েছে ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি ফাঁকা। সড়ক নির্মাণ কাজ শেষের এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল স্থানগুলোতে সিমেন্টের গোলা ব্যবহার করে মেরামতও করা হয়েছে।

কাজে অনিয়ম বিষয়ে সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ পাল মেয়রের নির্দেশ ছাড়া কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে পৌরসভার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, সোনাগাজী পৌরসভার উন্নয়ন কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তাই প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করা হবে। কিছুদিনের মধ্যে তদন্ত টিমকে সরেজমিন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হবে।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের কাছে উন্নয়ন কাজের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিকে কাল্পনিক ও একটি চক্রের অপপ্রচার বলে দাবি করেন।

১৪ নেতাকর্মীকে আত্মগোপনে পাঠানোর অভিযোগ

দৈনিক দেশ রুপান্তর প্রকাশ করেন, ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের খুঁজে পাচ্ছেন না। দলের প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের ভোটাভুটিতে প্রভাব ফেলতে বর্তমান মেয়র,উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ব্যাপারে ৬জন মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগ গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দৈনিক জনতায় প্রকাশিত সড়ক উন্নয়নের নামে মেয়রের লুটপাট

ফেনী জেলার সোনাগাজী পৌরসভায় সড়ক উন্নয়নের নামে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (আইইউডিপি-২) আওতায় প্রায় ১০কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ফেনীর ডাকে প্রকাশিত পৌর সড়ক নির্মানের নামে ৩৪ লক্ষ টাকা লোপাট

ফেনীর সোনাগাজী পৌর ভবন সড়কের নামে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সোনাগাজী পৌরসভার ৩২০ ফুট সড়ক ও গেইট নির্মান করে দেন রাকিব প্লাজা এসি মার্কেটের মালিক মোশারফ হোসেন। কাজ চলাকালীন ফেনীর সময় ও দৈনিক স্টার লাইনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতাশিত সংবাদে দেখা গেছে শিল্পপতি মোশারফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, মেয়রের অনুরোধে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ করে পৌর সড়ক ও গেইট নির্মান করে দিয়েছে। এতে কাজের বিল ধরা ৩৪ লাখ টাকা।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 + eighteen =