মুনিয়ার লাশ উদ্ধার নিয়ে রহস্য

0
443

জেমস এ কে হামীম:গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার নিয়ে রহস্য বেড়েই চলছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেই প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, মুনিয়াকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য সিলিং ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি অনেক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়াও পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করছেন। বাসা থেকে ফুটপ্রিন্টসহ সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মুনিয়া আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, বিষয়টি ক্লিয়ার হতে কিছু সময় লাগবে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সবগুলো বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত করছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হবে। এছাড়া ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ভিসেরা পরীক্ষাসহ সবকিছুই করা হচ্ছে। আত্মহত্যা করে থাকলে মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করলো তার কারণও জানার চেষ্টা চলছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মুনিয়া যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতো সেই অ্যাপার্টমেন্টের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে সর্বশেষ কে বের হয়েছে কিংবা ঘটনার দিন ওই বাসায় কারা গিয়েছিল বা বের হয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করতে কিছু সময় প্রয়োজন। এছাড়া মুনিয়া ও সন্দেহভাজনদের কল রেকর্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন সায়েম সোবহান ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি স্পর্শকাতর। এখানে হুটহাট করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তথ্য-প্রমাণ হাতে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। তা না হলে আসামি মামলা থেকে স্কিপ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এজন্য ফরেনসিক পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুনিয়ার মোবাইল ফোনসহ অনেক কিছুই ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। মুনিয়ার ডায়েরির লেখাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
তদন্ত সূত্র জানায়, মুনিয়া এর আগে বনানীসহ মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতো বলে তারা জানতে পেরেছেন। মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটেও সায়েম সোবহান নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে ওই ভবনের মালিক এস আলম বাংলা  বলেন, ২০১৯ সালের শেষের দিকে মুনিয়া আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতো। সে সময় আমি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে পাজেরো গাড়ি নিয়ে আসতে দেখেছি। আমি মুনিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে তার স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছিল। এখন তো দেখি অন্য বিষয়।’

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মুনিয়ার মৃত্যু রহস্যের সঙ্গে আরও কিছু বিষয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামের এক হুইপের ছেলের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের মেয়ে ঘটিত বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এছাড়া ৫০ লাখ টাকা পাওয়া নিয়ে সায়েম সোবহান ও মুনিয়ার একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়েও আমরা অনুসন্ধান করছি। তদন্ত শেষে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান তাকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। নিয়মিত ওই বাসায় সায়েম যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো। মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এর বিচার চান তারা। 

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + 20 =