বিসিএস ডাক্তারের বিরুদ্ধে যৌতুক মানসিক নির্যাতনের মামলা দ্বিতীয় স্ত্রীর

0
905

ফারহান আবদুল্লাহ: ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মুদ্দাচ্ছির রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি সহ শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর ৭/৪/২২ একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী। অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী উল্লেখ করে বলেন যে তার স্বামী ডা. মুদ্দাচ্ছির প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন করে দ্বিতীয় বিবাহ করে। এবং তাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। ধর্মীয় বিধি মোতাবেক এবং উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ডা. মুদ্দাচ্ছির রহমানের সাথে আমার বিয়ে হয়।  বিয়ের কিছুদিন পরে আমার স্বামীর মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করি। পরবর্তীতে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে আগে তার একটি বিয়ে ছিলো এবং সেই পরিবারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এই বিষয়ে জানার পর থেকে আমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে এবং সে আমার কোন ভরণ পোষন না দিয়ে আমার কাছে প্রায় টাকা চাইতে থাকে। টাকা না দিতে পারলে

আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। আমি আমার মা কে বিষয়টি জানালে মা কষ্ট করে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১,২৫,০০০/- (এক লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা প্রদান করি এবং বলি আমার পক্ষে আর টাকা দেয়া সম্ভব নয় তখন সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পরে সে আমার কাছে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা চায়। আমি টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন ভাবে আমাকে মানুষিক নির্যাতন সহ ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে ।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগ দেয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে গেলে উল্টো অভিযোগকারীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করা হয় ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ০৭.০৪.২০২২ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মুদ্দাচ্ছির রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় মাস আগে হাসপাতাল কর্তিপক্ষের কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু পরিচালক অভিযোগ আমলে না নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলে পাশ কাটিয়ে যায়।

ডা.মুদ্দাচ্ছিরের সাথে কথা বলতে হাসপাতালে গিয়ে তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করে এবং ক্ষুদেবার্তা দিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করতে হাসপাতালে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার জানান , হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন আরো কর্মকর্তা ও সিনিয়র ডাক্তাররা নার্স ও শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করে যৌণ হেনস্থা করে। এর চেয়ে আরো জঘন্য ঘটনাও ঘটে বলে আমাদের জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করে আরো হেনস্থার শিকার হন তারা। কারণ তারাই এগুলোর সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক ব্যবস্থা নিবো নিচ্ছি বলে সাংবাদিকদের সময় ক্ষেপণ করে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 3 =