ইসলাম ধর্ম

রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) এর ইন্তিকালের ৪০ বছর

বিশ্ববরেণ্য বুজুর্গ ও আলেমেদ্বীন, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার, মুজাহিদে মিল্লাত, জিকরে মুজাসসাম, কুতুবে আলম, আমীরে শরীয়ত আল্লামা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) এর জন্ম: ১৮৯৫ – মৃত্যু: ৭ মে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ; ৮ রমজান ১৪০৭ হিজরি।

 [হিজরী সালের হিসাব অনুযায়ী]।

জন্ম ও শিক্ষা:

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ১৮৯৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার লুধুয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইদ্রিস ও মায়ের নাম খাদিজা। পরিবারেই হয় তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। দুবলারচর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে চন্দ্রগঞ্জের বাইতুল আমান জামে মসজিদ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।

তারপর লাকসামের নবাববাড়ি মাদ্রাসা ও খিলবাইছা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে ১৯১৩ সালে তিনি পানিপথের উদ্দেশে পাড়ি জমান। সেখানে কোরআন মুখস্থ ও তাজবীদে পাণ্ডিত্য লাভ করায় স্বীয় উস্তাদ তাকে হাফেজ্জী উপাধি প্রদান করেন। ১৯১৬ সালে পানিপথ ত্যাগ করে মাওলানা থানবীর পরামর্শে মাজাহির উলুম সাহারানপুর মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শুরু করেন?। ১৯২৩ সালে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করে ১৯৯৪ সালে দারুল উলুম দেওবন্দে উচ্চতর বিভাগে অধ্যয়নে মনোযোগী হন এবং সেখান থেকে তিনি ইসলামি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর সমাপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।

হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ছিলেন একজন নিখাদ ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও সুফিবাদী চিন্তার ধারক। সারাজীবন আধ্যাত্মিক সাধনা, জ্ঞান চর্চা ও শিক্ষাবিস্তারে কাটান।  মাজাহির উলুম সাহারানপুর ও দারুল উলুম দেওবন্দে শিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে তিনি দেওবন্দের অনুকরণে বড় কাটরা মাদ্রাসা, লালবাগ মাদ্রাসা, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা, মাদ্রাসায়ে নূরিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হাজার হাজার হাফেজী ও কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আশরাফ আলী থানভীর খলিফা ছিলেন। আধ্যাত্মিক সংগঠন “মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ”  প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

শেষ বয়সে তিনি রাজনীতিতে আগমন করেন। জীবন সায়াহ্নে তার রাজনীতিতে আগমনকে বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

রাজনীতিতে হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ):

হাফেজ্জী হুজুর রহ: তওবার ডাক দিয়ে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন এবং ১৯৮১ সালে ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সরকারি হিসেবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। একই বছর ২৯ নভেম্বর তাঁর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন “বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন” নামে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহঃ), চরমোনাইয়ের মরহুম পীর মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ ফজলুল করিম (রহঃ) এবং মুফতি ফজলুল হক আমিনী (রহঃ) ছিলেন হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ছাত্র ও মুরীদ। তিনজনকেই তিনি খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর নিযুক্ত করেন । জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া, মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, মাওলানা শাহ ফয়জুর রহমান, মাওলানা আবুল হাসান যশোরী ও  মুফতি ইউসুফ ইসলামাবাদীসহ দেশবরেণ্য প্রায় সকল ওলামায়ে কেরামই খেলাফত আন্দোলনের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্পৃক্ত ও সক্রিয় ছিলেন।

ইরাক-ইরান ২টি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য  ১৯৮২ সালের হাফেজ্জী হুজুর রহ: ইরান – ইরাক সফর করেন। ইরান ও ইরাকের  প্রেসিডেন্ট এবং তাদের শীর্ষনেতৃবৃন্দের সাথে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে  প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধে হাফেজ্জী হুজুরের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন।

১৯৮৩ সালের ২৩ জুলাই হাফেজ্জী হুজুর সকল পথ ও মতের দেশের সকল দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মানবতার মুক্তির গ্যারান্টি ইসলামী হুকুমত কায়েমের আন্দোলনে শরিক করার মহান লক্ষ্য নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠক আহবান করেন। গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি,  বাকশাল,  কমিউনিস্ট পার্টি, মুসলিম লীগ, জামায়াতসহ ৩৪ টি  রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হাফেজ্জী হুজুরের এ গোলটেবিল বৈঠক উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

 গোলটেবিল বৈঠকে হাফেজ্জী হুজুর তিন দফা দাবি পেশ করেন:

১. অনতিবিলম্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ ঘোষণা করা।

২. ইসলামী শাসনতন্ত্র রচনা করা।

৩. দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠন করে তিন মাসের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান।

হাফেজ্জী হুজুরের ৩নং দাবিটিই পরবর্তীতে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখায় পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালে ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসম্মেলন। সম্মেলন শেষে এরশাদ সরকারের  জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে হাফেজ্জী হুজুর ঘোষণা করেন বর্তমান সরকার না ইসলামী সরকার, না জাতীয় সরকার। দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জনগণ ইসলামী সরকার ক্ষমতায় দেখতে চায়।

১৯৮৪ সালের ২১ অক্টোবর হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বে দশটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ। একই বছর ২১ শে ডিসেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সভাপতির ভাষণে হযরত হাফেজ্জী হুজুর বলেন, দুর্নীতির গণতন্ত্রের বদলে আমিরুল মুমিনীন, মজলিসে শুরার পদ্ধতি এবং কোরআন-সুন্নাহর শাসন প্রবর্তনের জন্যই  আমার সংগ্রাম।

১৯৮৫ সালের ২৫ জুলাই হাফেজ্জী হুজুর লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। সম্মেলনে  মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে ইসলামী শাসনপ্রতিষ্ঠায় ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

এছাড়াও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ইসলাহের উদ্দেশ্যে হাফেজ্জী হুজুর পাকিস্তানের  রাষ্ট্রপ্রধান আইয়ুব খান ও জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ-এর নিকট চিঠি প্রেরণ করেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ:

১৯৮১ সালে ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সরকারি হিসেবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

১৫ অক্টোবর ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী হয় এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

কেন তওবার রাজনীতি?

তাঁর রাজনীতি ছিল অন্যায় থেকে তওবার রাজনীতি। অপাত্রে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, জনগণের হক্ব নষ্টকারীদের ক্ষমতায় বসিয়ে আমরা যে অন্যায় করে থাকি তা থেকে তওবা করে সৎ, যোগ্য ও ঈমানদার লোকদেরকে ভোট দিয়ে সেই অন্যায় থেকে তওবা করার আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।

১. আলেমদের প্রতি আহ্বান:

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আলেমদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামী আদর্শের আলোকে একটা রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়ে। কিন্তু রাজনীতিবিদরা শঠতার আশ্রয় নেন। তারা একে ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর চেয়ে মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে গুরুত্ব বেশি দিচ্ছিলেন। এদেশের সাধারণ মানুষ এবং আলেম সমাজের একটা অংশ এই ধোঁকায় পড়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দিয়ে, মাদ্রাসা এবং খানকা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মনোযোগী হন। এমতাবস্থায় পাকিস্তান রাষ্ট্রটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং তার ইসলামী চরিত্র হারাতে থাকে। আলেম উলামার রাজনীতিতে এই নিষ্ক্রিয়তাকে তিনি অপরাধতুল্য বিবেচনা করেন।

২. আহাম্মুল ফারায়েজ:

হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ঘোষণা করেন, আল্লাহর যমিনে কোরআন সুন্নাহর শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা আহাম্মুল ফারায়েজ (ফরজসমূহের ভিত্তি বা ফরজ সমূহের ফরজ) তথা গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। এই গুরুত্বপূর্ণ ফরজ থেকে বিরত থাকা জনিত পাপ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য সক্রিয় থাকতে হবে।

৩. রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের ভ্রান্তি:

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলাম, খেলাফতে রব্বানী পার্টি এবং আরও কিছু ইসলামী দল মাঠের সক্রিয় ছিল। কিন্তু তাদের প্রকৃত কোন ইসলামী চরিত্র ছিল না। তাই তিনি তাদেরকে অতীত ভুল থেকে বের হয়ে নতুন করে (তওবা করে) কর্মসূচি গ্রহণ করে সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

৪. বিনয় প্রকাশ: তিনি ছিলেন একজন বিনয়ী মানুষ। যারা ভুলে নিমজ্জিত আছেন তাদেরকে সরাসরি ভুল ধরিয়ে দিলে তারা লজ্জাবোধ করতে পারেন, নিজেদেরকে এই ফরজ কাজটি থেকে গুটিয়ে নিতে পারেন এই আশঙ্কায় তিনি তওবার রাজনীতির কথা বলেন।

৫. ইসলামের আংশিক বিধান মানা:

এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ- শাসক গোষ্ঠী এটি ভালো করেই জানে। তাই কখনো সংবিধানে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”,  কখনো “আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস”  সংযোজন করে জনগণকে ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করে।

৬. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন ওলামায়ে কেরামদেরকে লাঞ্ছিত- অপমানিত করা হচ্ছিল, কোন আলেম রাজপথে দাঁড়িয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলার সাহস করছিলেন না, ঠিক তখনই হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) মাদানী অবতীর্ণ।

ইন্তেকাল: ৮ রমযান ১৪০৭হিজরি, ১৯৮৭ সালের ৭ মে, বৃহস্পতিবার বেলা পৌঁনে ২টায়  এই মহামানব রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার আল্লামা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর প্রায় ১০০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরের দিন শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে লাখ লাখ মুসল্লির অংশ গ্রহণে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে  ইমামতি করেন  মরহুমের বড় সাহেবজাদা মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ রহ.। জানাযায় দল মত নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং তার ছাত্র মুরীদ নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ শোকাহত মানুষের ঢল নামে।

জানাযায় শরিক হয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, আমার জীবদ্দশায় এত বড় বিশাল জানাজার নামাজ আর কখনো দেখিনি। জানাযায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, ডঃ কামাল হোসেন, বিএনপি’র তৎকালীন মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবদুল করিম শায়খে কুরিয়া, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকসহ সকল সিলসিলার পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং সকল দলের নেতৃবৃন্দ। পরে কামরাঙ্গীরচরে নিজ হাতে গড়া নুরিয়া মাদ্রাসা মসজিদের দক্ষিণ পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

হাফেজ্জী হুজুরকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ/ সাময়িকী:

যুগশ্রেষ্ঠ এই আলেমকে নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক লেখালেখি হয়েছে, অনেকে তাঁর জীবন এবং কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন। এমনকি তাকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন অনেকে। তাকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য লেখনি নিম্নে দেয়া হল:

২০০৫ সালে হাফেজ্জী হুজুর স্মারক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) : তাঁর রাজনীতি ও সমাজ সংস্কার’ শীর্ষক একটি পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। তার জীবন-কর্মের উপর অন্যান্য কাজ সমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘আমীরে শরীয়ত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.–নাসীম আরাফাত’, ‘হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ. জীবনী–মুহাম্মদ আবদুল হক’, ‘মধ্যপ্রাচ্যে হাফেজ্জী হুজুর–আখতার ফারূক’, ‘আমীরে শরীয়ত হযরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.–সালাহ উদ্দীন জয়নাল ও মুজিবুর রহমান হামিদী’, ‘কারামতে হাফেজ্জী হুজুর রহ.–ফখরুল ইসলাম’, ‘ছোটদের হাফেজ্জী হুজুর রহ.–মো. খালেদ’, ‘হেদায়েতে মাজালিসে হাফেজ্জী হুজুর রহ.–মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ’, ‘হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারা–হাফেজ্জী হুজুর ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি’, ‘হাফেজ্জী হুজুরের গোলটেবিল বৈঠক–হাবিবুর রহমান, ‘হাফেজ্জী রহ. রচনা সমগ্র–হাফেজ্জী হুজুর গবেষণা ফাউন্ডেশন’ ইত্যাদি।

হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ: ছিলেন সুন্নাতে নববীর সঠিক ধারক-বাহক, সর্বজনমান্য বুজুর্গ, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, নিরহংকার, নিরভিমান ও নিঃস্বার্থ আল্লাহ প্রেমের মজনু। এদেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস। তাঁর জীবন,দর্শন, চিন্তাধারা, কর্মপ্রেরণা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য  অম্লান ও অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা হযরতকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক । আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button