অপরাধ

মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, ফজর আলী ও আলম চক্রের অপ-তৎপরতা

মামুন খান: রাজধানীর মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে, যার ফলে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একজন সংবাদকর্মী দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এই অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ঘুষের দাবি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। ঘুষ না দিলে বৈধ দলিলেও নানা মনগড়া ত্রুটি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির শিকার করা হয়। এছাড়া নাল জমিকে ডোবা বা নালা দেখিয়ে জমির প্রকৃত বাজারমূল্য গোপন করার মাধ্যমে প্রতি দলিলে সাব-রেজিস্ট্রারের নামে ৯ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ ‘স্পিড মানি’ কালেকশন করা হচ্ছে। এতে জমি ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতারিত হলেও সিন্ডিকেটটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

অভিযোগে উঠে এসেছে, এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি একটি সুসংগঠিত দুর্নীতিচক্রের দখলে চলে গেছে। এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উমেদার ফজর আলী (ওরফে ইব্রাহিম), উমেদার সবুজ এবং সাবেক নাইট গার্ড মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের নাম উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, উমেদার ফজলের সবুজ সংকেত বা সিগনেচার ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কোনো দলিলে স্বাক্ষর করেন না। কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে নকল নবিশদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রাখা হয়েছে। এমনকি এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে চাকরিচ্যুত করা বা অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময়ের সাধারণ কর্মী ফজর ও তার সহযোগীরা এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। ফজরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে বিপুল জমিজমা ছাড়াও ঢাকার মিরপুর ও তার আশেপাশের এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকানা রয়েছে। অবৈধ প্রভাব ও অর্থবিত্তের জোরে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এসব দুর্নীতির অভিযোগ ও ফজর আলীর বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি বরং সে এ বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button