প্রশাসন

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে বড় শিল্প গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে: মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা

মুহাম্মদ জুবাইর: পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে একটি বড় শিল্প খাত গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, প্লাস্টিক বর্জ্যকে শুধু পরিবেশদূষণের উপাদান হিসেবে বিবেচনা না করে পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এ জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে প্লাস্টিক সংগ্রহ থেকে শুরু করে পৃথকীকরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনর্ব্যবহার ও অবশিষ্ট বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্পত্তি-প্রতিটি ধাপে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর মতে, প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত না হলেও এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত প্লাস্টিক নিয়মিত অপসারণ, পৃথকীকরণ এবং পরিবেশসম্মত উপায়ে পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে শিশুদের কাছে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে চার শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে।

চিড়িয়াখানায় প্রবেশের নিয়মিত টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিলে বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্লাস্টিক সংগ্রহের আগ্রহ তৈরি করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ রোধে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ৭০ টাকা অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে ব্যয় করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ফলে তারা বুঝতে পারছে, যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক ফেলে দিলে পরিবেশের ক্ষতি হয় এবং সেগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা দেখার সুযোগ করে দেওয়া নয়; বরং ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের মানসিকতা তৈরি করা। শিশুরা নিজেরা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে জমা দিলে তারা বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে তারাই পরিবার, সহপাঠী ও আশপাশের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেই গড়ে উঠতে পারে শিল্প খাত
পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের সম্ভাবনা তুলে ধরে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্যোগটি চালুর পর বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক কীভাবে কাজে লাগানো যায়, কীভাবে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব এবং এ খাতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে-এসব বিষয়েও অনেকে জানতে চেয়েছেন। তবে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মানবিক জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ যদি নিয়মিতভাবে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে এবং সেগুলো নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো যায়, তাহলে এ বর্জ্যকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতে একটি বড় শিল্প খাত গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশসম্মত প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারলে একদিকে পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে পুনর্ব্যবহারভিত্তিক শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনাও বাড়বে। এ জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত না হলেও এর ব্যবহার-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য, সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করতে হবে। এরপর উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় সেগুলো পুনর্ব্যবহার করতে হবে, যাতে বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থেকে পরিবেশের ক্ষতি না করে।
প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে ইপসার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী, চিড়িয়াখানায় জমা হওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে চিড়িয়াখানায় জমা হওয়া প্লাস্টিকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে একটি নিয়মিত কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক যেন দীর্ঘদিন জমে না থাকে কিংবা পরিবেশের জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি না করে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হবে না। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এ সমঝোতা কার্যকর থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। অন্যদিকে, ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী। জেলা প্রশাসক ইপসার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার মতো একটি দর্শনার্থীসমাগমপূর্ণ স্থানকে কেন্দ্র করে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিবেশ সচেতনতার বার্তাটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চিড়িয়াখানার বাইরেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান
জেলা প্রশাসক মনে করেন, প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের এ কার্যক্রম শুধু চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, বাজার, বিনোদনকেন্দ্র এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত হতে হবে। প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা কোথায় জমা দিতে হবে, কীভাবে পৃথক করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপদে পুনর্ব্যবহার করতে হবে-এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ ব্যবহারে গুরুত্ব
প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে পাটসহ প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্লাস্টিকের ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে তা পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই যেসব ক্ষেত্রে সম্ভব, সেখানে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার, প্লাস্টিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। জেলা প্রশাসকের মতে, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বর্জ্য কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তির পাশাপাশি মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতার চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন।

চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ করার পরিকল্পনা
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ লক্ষ্যে চিড়িয়াখানা এলাকায় প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতি যুক্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের কাছে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়ছে। প্রাণী দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার পরিবেশ আরও সবুজ ও মনোরম করার উদ্যোগ দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরির ক্ষেত্রেও চিড়িয়াখানার ভূমিকা রয়েছে।
মুঠোফোনের পর্দার বাইরে প্রকৃতি দেখার আহ্বান
শিশু-কিশোরদের চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের শুধু মুঠোফোনের পর্দায় সময় কাটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো, প্রকৃতি দেখা এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিতে হবে।
তাঁর মতে, পশুপাখি ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে শিশুরা পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। চিড়িয়াখানা পরিদর্শন তাদের শেখার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

এ জন্য অভিভাবকদেরও শিশুদের নিয়ে চিড়িয়াখানা ও অন্যান্য শিক্ষামূলক স্থানে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেন তিনি। শিশুদের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং চিড়িয়াখানার শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানাতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন জেলা প্রশাসক।সমন্বিত উদ্যোগে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার প্রত্যাশা
জেলা প্রশাসক বলেন, সমঝোতা স্মারকটি পরিসরে ছোট হলেও এর মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সুযোগ রয়েছে। একটি ছোট উদ্যোগ থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হতে পারে, আর সেই সচেতনতা বিস্তৃত হলে বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিক জমা দেওয়ার কার্যক্রম এবং সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগকে এ ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কার্যক্রমটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ, জনসম্পৃক্ততা এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার অভ্যাস গড়ে উঠবে এবং প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা এ খাতে এগিয়ে এলে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও ইপসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে কেন্দ্র করে নেওয়া এ উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ, শিশু-কিশোরদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের সম্ভাবনাকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত ও সম্প্রসারিত হলে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button