মোঃ মনির: কমরেড সামাদ গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজের টিউরি গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন এর পর ১৯৭২ সালে কালিগঞ্জে অবস্থিত মুসলীম কটন মিলে শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। সদ্য স্বাধীন দেশে একদল লুটেরা বিভিন্ন মিল – কারখানায় লুটের রামরাজত্ব কায়েম করে। ফলে উৎপাদন ব্যহত হয়ে দিনে দিন মিল কারখানা গুলো রুগ্ন হতে থাকে। তৎকালীন সরকারের দুর্বল রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় নেতৃস্থানীয়দের লোভের আগুনে ক্ষয় হতে থাকা শিল্প – কারখানায় শ্রমিক সংগঠনগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগ্রাম গড়ে তোলে। মুসলিম কটন মিলেও এ সংগ্রাম গড়ে ওঠে। কমরেড সামাদ শ্রমিকদের একটা অংশের তখন তুখোড় তরুণ নেতা। তার বাগ্মিতা শক্তি ও নেতৃত্বের সততা সকল মহলে প্রসংসিত হয়। তিনি হয়ে ওঠেন আপসহীন তেজী নেতা।
‘৭২ সালে ৩১ অক্টোবর বিপ্লবী তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতি অপশাসন প্রতিরোধের দুর্বার ডাকে মুক্তির সনদ “বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ” স্লোগানে গড় ওঠে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদ। এ দলে মেধাবী তরুণ ছাত্রনেতৃত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশাল সমন্বয় ঘটে। সারা দেশে নিপিড়িত নির্যাতিত বিপ্লবীদের অংশগ্রহণ ঘটে আশাতীত রকম। সে কাহিনী দীর্ঘ। সে আলোচনা এ মুহূর্তে অনাবশ্যক। কাজেই কমরেড সামাদ আলোচনায় থাকাটাই সমিচীন।
বলছিলাম সদ্য জম্ম নেয়া (৭২) জাসদের কথা। সারা দেশে ছাত্র তরুণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্রোতের মতো আগমন ঘটে জাসদ রাজনীতিতে। মিল – কারখানায় শ্রমিকদের মাঝেও জাসদ অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে । তারুণ্যের অহংকার সামাদও জাসদ রাজনীতিতে একাত্ব হন। তিনি মূলতঃ শ্রমিকদের মাঝে তাদের দাবী দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে তিনি মুসলিম কটন মিলে সক্রিয় হন।
‘৮০ সালে জাসদ রাজনীতির তত্ত্বগত বিশ্লেষণে অবশেষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ সৃষ্টি হলে কমরেড সামাদ কমরেড আ, ফ, ম মাহবুবুল হক এর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে আমৃত্যু এ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একজন নিবেদিত রাজনীতিক ছিলেন। আজ তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনীতির বর্নাঢ্য জীবনের অবশান হলো।
মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে এক মেয়ে স্ত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আমি কমরেড আবদুস সামাদ আজাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে বিশ্বাসীদের সামাজিক সংগঠন ” সহ যাত্রী” র এক অনুষ্ঠানে আমরা কালিগঞ্জ যাই। আমাদের হোল্ডিংপ্লেস ছিল কালিগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বাজার যা ছিল কমরেড সামাদ এর বাড়ির সন্নিকটে। আমি এবং চঞ্চল দুজনে সামাদ ভাইর বাড়ি যাই। সামাদ ভাই শয্যাসায়ী প্রায় পাঁচ বছর। এ সময়ে দলের কেউ তাকে দেখতে যাননি। মাঝ মাঝে কমরেড আজহার খবর নিতেন এবং আর্থিক সহযোগিতাও করতেন বলেছেন মিসেস সামাদ। সামাদ ভাই আমাকে দেখে অশ্রুনয়নে জড়ায়ে ধরলেন। ক্ষীণ কন্ঠে উচ্চারণ করলেন মুনীর ভাই। আজ ১৯ দিন পর সকালে তার মৃত্যু সংবাদ পেলাম।



