ভুমিকম্পে ডেঞ্জারজোনে সিলেট নগরী

0
77

আশির দশক পর্যন্ত সিলেটে একটা মিথ খুব জনপ্রিয় ছিলো। সিলেটের লোকজন, যারা ধর্মে মুসলমান তারা তো বটেই, এমনকি যারা ধর্মে মুসলমান নন তাদের বেশিরভাগও বিশ্বাস করতেন, ‘হযরত শাহাজালাল (রঃ) দরগাহের মিনার থেকে উঁচু ভবন সিলেট শহরে নির্মান করা তাঁর প্রতি অসম্মান প্রদর্শণ হবে এবং সেই ভবনটি ভেঙ্গে পড়বে।’

শাহজালাল (রঃ) মাজারটি সিলেট নগরের একেবারে মধিখ্যানে অবস্থিত আর মাজারের মিনারটির উচ্চতা প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান। ফলে আশির দশক পর্যন্ত সিলেটে পাঁচতলা থেকে উঁচু ভবন নির্মান করা হতো না। তৎকালীন সময়ে সিলেটের বেশিরভাগ বাসাবাড়িই ছিলো একতলা-টিনশেডের।

সিলেটের নাগরিকদের বহুতল ভবন নির্মান না করার একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও ছিলো। সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে সিলেট ভুমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্পের একেবারে উৎপত্তিস্থলেই সিলেটের অবস্থান। ফলে সিলেটে বহুতল ভবন নির্মান ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ। অনিরাপদ।

তবে নব্বইয়ের দশকে এসে বিজ্ঞান আর বিশ্বাস ভুলে একটি অসুস্থ প্রতিযোগীতায় মেতে উঠলো পুরো সিলেট। অলস অর্থ, পাউণ্ড-ডলারের উড়াউড়ির এই শহরে একেএকে গড়ে উঠতে লাগলো আকাশ ছোঁয়া ভবন। একতলা বাড়ি ভেঙ্গে বিশাল আ্যপার্টমেন্ট, দিঘী দখল করে সুউচ্চ বিপনী বিতান, ডোবা-হাওর দখল করে হাউজিং প্রকল্প। এই অসুস্থ, বিকৃত, আত্মঘাতি প্রতিযোগীতার ফলে অপরিকল্পিতভাবে, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, কোনরুপ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা চিন্তা না করে গড়ে উঠেছে একের পর এক হাইরাইজিং বিল্ডিং। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নগর কর্তাদের উদাসীনতায় দেখা দিয়েছে এ ভযংকর পরিস্থিতির। তিলে তিলে তিলোত্তমা হয়ে উঠার কথা ছিলো যে ছিমছাম, ঘরোয়া শহরটির তা এখন পরিনত হয়েছে মৃত্যুকূপে। ভূমিকম্পের মৃত্যুকূপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিকটার স্কেলে পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেটের আশি ভাগ ভবনই ধ্বসে পড়বে। সাত মাত্রার ভূমিকম্প হলে এ অঞ্চলের প্রায় ৯৫ ভাগ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রাণ হারাবে ১২ লাখ মানুষ এবং টাকার অংকে ক্ষতি হবে ১৭ হাজার কোটি।

ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোনে সিলেটের অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের আশংকা, এই দশকেই সিলেট অঞ্চলে প্রবলমাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ভৌগলিক অবস্থান ও অতীত ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা এমন আশংকা ব্যক্ত করছেন। বাংলাদেশের পাহাড়বেষ্টিত এলাকাকে ঘিরে গত কয়েক বছর ধরে সংঘটিত মাঝারি ও তীব্রতর কয়েকটি ভূমিকম্প সিলেটে ভূমিকম্পের আশংকা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ সিলেটের কিছু অংশে আবারও ভূমিকম্প হওয়ায় এ আতঙ্ক আরো বেড়েছে।

ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসার্টিয়াম ১৯৯৮-এর জরিপ অনুযায়ী ‘সিলেট অঞ্চল’ ১০০ বছরের বেশী সময় ধরে সক্রিয় ভূ-কম্পন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

এ পর্যন্ত সংঘটিত ১৮৩৩, ১৮৮৫, ১৮৯৭, ১৯০৫, ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৪৭ ও ১৯৫০ সালের বড় ধরনের আটটি ভূমি কম্পনের মধ্যে দু’টিরই উৎপত্তিস্থল ছিল (এপি সেন্টার) সিলেটের জৈন্তা পাহাড়ে। একই উৎপত্তিস্থল থেকে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় ভূমিকম্পের ফলে সমগ্র সিলেট অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভূ-কম্পনের ইতিহাসে ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক’ নামে পরিচিত। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহতম ভূ-কম্পনটির উৎসস্থল ছিল সিলেট জেলার পূর্ব সীমান্তবর্তী ভারতে।

রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮.৬। ভূমিকম্পটির বি¯তৃতি ছিল উৎসস্থল থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে। এই ভূমিকম্পের কারনে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ পরিবর্তন সহ সিলেট ও আসাম অঞ্চলের উলে¬খযোগ্য ভৌগলিক পরিবর্তন ঘটে। ১৯৫০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণে সিলেট অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। এই ভূমিকম্পটি ‘তিব্বত’ নামে ইতিহাসে পরিচিত রয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ এর উপরে।

সিলেটে ভূমিকম্প জনিত কারনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যাতে কম হয় সে ব্যাপারে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বিশেষজ্ঞ মহল বরাবরই তাগিদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে নগরায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড শতভাগ মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন।

সম্প্রতি এক গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেটের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ভবন ধ্বসে পড়বে। এতে ক্ষতি হবে ৮ হাজার কোটি টাকার। প্রাণহানি হবে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের।

গবেষকদের মতে, সিলেটের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ভবনই অপরিকল্পিত এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। রিখটার স্কেলে সাত বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে অধিকাংশ ভবনই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। একারণে সিলেটের মানচিত্রও পাল্টে যেতে পারে। চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে সিলেটের গ্যাস এবং তেল ক্ষেত্রগুলো। কেবল গ্যাস ফিল্ডেই ক্ষতি হবে ৯ হাজার কোটি টাকার। পরিবেশ বিপর্যয়ও নেমে আসবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত বাসাবাড়ি নির্মাণের কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হবে নগরীর শাহজালাল উপশহর, আখালিয়া, বাগবাড়ি, মদিনা মাকের্ট প্রভৃতি এলাকা। বাণিজ্যিক ভবন ও ইমারতের পাশাপাশি নগরীতে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। গবেষণার তথ্য মতে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বহু বেসরকারী হাসপাতাল রয়েছে যেগুলো ভূমিকম্পের সময় ধ্বসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আর এসব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ধসে পড়লে প্রাণহানি আরো বেড়ে যাবে। কারণ ভূমিকম্পে মারাত্মক আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে না।

বছর দুয়েক পূর্বে বাংলাদেশ, জাপান ও শ্রীলংকার একটি বিশেষজ্ঞ টিম সিলেট নগরীর ৬ হাজার ভবনের উপর জরিপ চালিয়ে এই গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেন।

শ্রীলংকা থেকে আগত প্রফেসর আরঙ্গা পোলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. হুমায়ূন আখতার, প্রফেসর ড. আপ্তাব আহমেদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ভিাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাকসুদ কামাল ও ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ জাপান থেকে আগত আরো দু’জন বিশেষজ্ঞ এই গবেষণা রিপোর্টটি তৈরি করেন।

এ প্রসঙ্গে ড. জহির বিন আলম বলেন, ভূমিকম্পের দিক থেকে সিলেট মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তাৎক্ষণিক ক্ষতি-হ্রাস ও উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য সিলেটে আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি নেই। তিনি ভূমিকম্পের ঝুঁকি মাথায় রেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

নগরায়ণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প ঝুঁকিকে মাথায় রেখে একটি মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও এরকম কোন প্ল্যান আজো হয়নি। ফলে বহুতল ভবন নির্মাণ, নগর সম্প্রসারণ হচ্ছে অনেকটা খেয়ালখুশিমতো। হাওর, বিল, খাল-নালা, জলাভূমি ভরাট করে, পাহাড়-টিলা কেটে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এতে ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেটে ক্ষতির আশংকা আরো বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় একশ’ ১৮ বছর আগে সিলেট অঞ্চলে ভয়বাহ ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন সংঘটিত সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল আট দশমিক সাত। ওই ভূমিকম্পে বৃহত্তর সিলেটে কয়েক হাজার লোকের মৃত্যু হয়। অগণিত বাড়ি-ঘর বিধ্বস্থ হয়। রেল লাইনসহ অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানাযায়, যে টেকনোটিক প্লেটে সিলেট অঞ্চল অবস্থিত তা ক্রমেই উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। প্রতি ১০০ বছরে তা এক মিটার সরছে। এ কারণে সিলেট অঞ্চল মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে সিলেটে প্রবল মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করা হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খড়বপুর আইআইটি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর এস.কে নাথ ২০০২ সালে প্রকাশিত তার এক গবেষনা রিপোর্টে আশংকা ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০১০ সালের মধ্যে ভারতের আসাম এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বড়ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। প্রফেসর এস.কে নাথের এই গবেষনায় সহযোগী হিসাবে কাজ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. জহির বিন আলম।

ড. জহির বিন আলম ওই গবেষণার কথা উল্লেখ করে জানান, সিলেটে নতুন ভবন নির্মাণসহ সার্বিক নগরায়ণে ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না। এছাড়া পুরনো অসংখ্য দুর্বল ভবনও রয়েছে।

সংশ্লিদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবন এলাকায় ১০০ বছর পর পর বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশংকা থাকে। সিলেটে বড়ধরনের একটি ভূমিকম্পের পর ১০০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় এই আশংকা বাড়ছে। এছাড়া কোনো এলাকায় বড়ধরনের ভূমিকম্পের আগে অনেকবার মৃদু ভূকম্পন হয়ে থাকে। আর সিলেটে এরকম মৃদু ভূমিকম্প প্রায়ই হচ্ছে।

ভূমিকম্প বিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে জানা যায়, ভূমিকম্পের মাত্রা অনুসারে বাংলাদেশ তিনটি ভূ-কম্পন বলয়ে বিভক্ত। এর মধ্যে এক নম্বর বলয়ে রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৯ বা তার অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। আর এই এক নম্বর বলয়েই সিলেটের অবস্থান। এই বলয়ে আরও রয়েছে ময়মনসিংহ ও রংপুর।

প্রবল ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকার পরও সিলেটে এব্যাপারে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ের তেমন কোন সাড়া নেই। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মাঝে-মধ্যে সভা-সেমিনার, কর্মশালা, ভূমিকম্পের মহড়া প্রদর্শনের মধ্যেই কার্যক্রম অনেকটা সীমাবদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাসে সিলেটে একটি মাস্টার প্ল্যান অত্যন্ত জরুরী। এই প্ল্যানের মধ্যে থাকবে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে- নগরায়ণ, জমি ব্যবহার, নগরীকে মাইক্রোজোনে বিভক্তকরণ ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেটে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নগরীর সব ভবনকে ভূমিকম্প প্রতিরোধক করা। এজন্য নতুন ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির ধরণের উপর নির্ভর করে ভবনকে একতলা বা বহুতল করতে হবে। জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনে এবং মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দালান তৈরি করতে হবে। আর পুরনো দুর্বল ভবনগুলোকে সংস্কার করে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সম্ভব না হলে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে কোন অবস্থাতেই ভবন নির্মাণ করা যাবে না।

ভূমিকম্প হলে উদ্ধারকাজের জন্য সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে ফায়ার ব্রিগেড ও ডিফেন্স সার্ভিসকে। তবে সিলেটের ৩৮ উপজেলার মধ্যে মাত্র ১১টিতে ফায়ার ষ্টেশন রয়েছে। ২৭ টিতেই স্টেশন নেই। আবার যে ১১ উপজেলায় আছে, সেগুলোতেও তেমন কোনো উদ্ধার কাজের যন্ত্রপাতি নাই। পুনর্বাসনের অবস্থা কেমন তা আর না বলাই শ্রেয়। তাছাড়া নগরীর বিভিন্ন অলি-গলির সরু রাস্তা দিয়ে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঢুকা প্রায় অসম্ভব। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান দায়িত্বটা সিটি কর্পোরেশনের উপরই বর্তায়।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সিলেট নগরীকে নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান মন্ত্রনালয়ে জমা দেওয়া আছে। এটি অনুমোদিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ভবনগুলোর তালিকা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতার জন্য স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করার কার্যক্রম চলছে কয়েকবছর ধরে। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। কয়েকটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি ও জনগনকে সচেতন তৈরির কাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

six + ten =