রাজউকের পরিদর্শকদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

0
250

রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান মিঞা জানান, যদি কোনো পরিদর্শকের জালজালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের লে-আউট পরিবর্তন, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি,  অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি মেনে অ্যাকশনে যাবে।

সানজিদ: নকশার বাইরে নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভবনের তালিকা করতে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। একই সাথে রাজউকের পরিদর্শকদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীতে রাজউকের নিয়ম মেনে নকশা অনুমোদনের পর তার বাইরে অহরহ ভবন নির্মিত হচ্ছে। আর সংস্থাটির পরিদর্শকরা তা দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে রাজধানীর অধিকাংশ ভবনই অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত। তবে রাজউকের পরিদর্শকদের দাবি, প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকির কাছে তারা অসহায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের বাধা দেয়া সম্ভব হয় না। অনেক আবাসন ব্যবসায়ী ও ভবন মালিক রাজউকের এ কাজ বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এজন্য বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের নামে ‘বানোয়াট’ অভিযোগ তুলে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রাজউকের। রাজউক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নিয়মবহির্ভূত ভবনের লাগাম ধরতে রাজউকের কঠোর অবস্থান জরুরি। আর নিয়মের ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল পরিদর্শকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনলেই চলবে না, সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে যারা জেনেশুনে অনিয়ম করেছে, যারা প্রভাব খাটিয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে ভবন মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ম মেনে রাজউকের কোনো কাজই করা যায় না। ঘুষ দিলেই সব হয়। ভবন বানানোর সময় থেকেই পরিদর্শকরা ঘুষের জন্য ঘুরতে থাকে। তার আগ পর্যন্ত নানা আইন আর নিয়ম দেখানো হয়। কিন্তু টাকা দিলে সব অনিয়ম শুদ্ধ হয়ে যায়, যেন অনিয়মটাই নিয়ম বাংলাদেশে। জালজালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের লে-আউট পরিবর্তন, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও রাজউক স্টেট শাখার কয়েকজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং কতিপয় দালালের যোগসাজশে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ প্রয়োজন। 

সূত্রে জানা যায়, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় যেসব ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ হয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ভবনগুলোর ওই অনিয়মের ক্ষেত্রে পরিদর্শকদের গাফিলতি আছে কিনা তা যাচাই করা হবে। যদি পরিদর্শকদের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে তখন তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান মিঞা জানান, রাজউকের পরিদর্শকরা নানা অজুহাত দেখায়। অনেক সময় তারা কাজ বন্ধ করে দিয়ে আসার পর আবার শুরু করে দেওয়া হয় বলেও জানায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকে রাজউকের মনিটরিং টিম বেশি বেশি করে বাইরে যাবে। পরিদর্শকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ভবন একেবারেই নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ হয়েছে সেগুলোও ভেঙে ফেলা হবে। সেক্ষেত্রে যদি কোনো পরিদর্শকের অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি মেনে অ্যাকশনে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 4 =