মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এমপি পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

0
95

এজাজ রহমান: বরিশাল-৪ আসনের (মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কাজীরহাট) সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য পংকজ দেবনাথ এলাকায় হত্যা, চোরাচালান, দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও নৈরাজ্যসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি এবং নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরিরও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপি পংকজ দেবনাথ। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বরিশাল-৪ আসনভুক্ত এলাকার ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি’। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর বলেন, ‘পংকজ দেবনাথের খবরদারি, জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে এলাকায় দলের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। তার অপকর্মের জন্য এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দিচ্ছে। শুধু তিনি একা নন, তার অনুপস্থিতিতে তার ছোট ভাই মনোজ নাথ, চাচাতো ভাই রামকৃষ্ণ নাথ, ভাগ্নে রিপন নাথের ইশারায় চলে প্রশাসনের অবৈধ বাণিজ্য ও লুটপাট। দলীয় কোনও নেতাকর্মী তার বিরুদ্ধে গেলেই প্রশাসনের দ্বারা মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘পংকজ দেবনাথের নির্যাতন, সন্ত্রাসী হামলা ও মামলার ভয়ে অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আজ এলাকাছাড়া। এলাকার যুব সমাজের হাতে তিনি মাদক ও অবৈধ অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। পংকজ দেবনাথের সঙ্গে মাদক ও চোরা করবারীদের সাথে সুসম্পর্কের কারণে মেহেন্দিগঞ্জের ইলিশা নদী দিয়ে কালীগঞ্জ রুটে মাদক দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে।’

আনোয়ার হোসেন সাগর আরও বলেন, ‘পংকজ দেবনাথ ১/১১-এর সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তার নির্বাচনি এলাকা বরিশাল-৪ আসনসহ রাজধানীর উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল বাড়ি, অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও গার্মেন্টস রয়েছে। ভারতেও তার একাধিক বাড়ি ও মার্কেট রয়েছে। তিনি হুন্ডি, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন।’ লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ জন নৈশপ্রহরী কাম দফতরি অবৈধভাবে নিয়োগ দেয় পংকজ দেবনাথ। এর জন্য প্রত্যেকের কাজ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা নেন তিনি।

এছাড়াও হাইস্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ডোনেশনের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন এই এমপি। আরও অভিযোগ করা হয়, পংকজ দেবনাথ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গঠন করে খেয়াঘাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, জলাশয়, লঞ্চঘাট, হাট-বাজার, নদীর বালু, মাছের পাড়া, খাদ্য গোডাউন, ভূমি অফিস, ইটভাটা থেকে লাখ লাখ  টাকা লুটপাট করেছেন। তিনি সরকারি খাস জমি বরাদ্দের নামেও বাণিজ্য করেছেন।

দখল বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের অসাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ও লুটপাটের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের আহ্বায়ক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল মাতুব্বর বলেন, ‘আমাদের দাবি পংকজ দেবনাথের এসব অপকর্ম ও দুর্নীতির যাতে সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়।

এছাড়াও এমন দুর্নীতিবাজÍ ব্যক্তিকে যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া না হয়। তার এসব হরিলুটের অপরাধে তাকে বিচারের সম্মুখীন করারও দাবি জানাচ্ছি।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পংকজ দেবনাথ  বলেন, ‘এরা (সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা) ষড়যন্ত্রকারী। এরা বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি থেকে দলে অনুপ্রবেশকারী।

এ ধরনের অনেক সংবাদ সম্মেলন গত ৫ বছরে বরিশাল ও ঢাকায় বহুবার ফেস করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচার করে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। মূলত তারা চায় না আমি আরও একবার মনোনয়ন পাই। তারা জামায়াত-বিএনপির অর্থায়নে এসব চক্রান্ত করছে। আমি মনে করি, সরকারি ও দলীয়ভাবে যদি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়, তবে সব অসত্য বলে প্রমাণিত হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − five =