১২ সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

0
255

আজ ৮ মার্চ ২০২১, রোজ সোমবার, সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিষাণী সভা, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভাসমান নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বিল্ডিং এন্ড উড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, অভিবাসী নারী শ্রমিক ফোরাম, ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন- বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতির যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হয়। “করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন বিশ্ব”-এ মূল শ্লোগান সহকারে মানববন্ধন অনুষ্ঠানের পর একটি শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী লাভলী ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কৃষক নেতা কমরেড এএসএম বদরুল আলম, জায়েদ ইকবাল খান, ভূমিহীন নেতা সুবল সরকার, শ্রমিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনি, এ এ এম ফয়েজ হোসেন, এ কে এম শহিদুল আলম ফারুক, শ্রমিক নেত্রী শামিম আরা, বাচ্চু মিয়া, আদিবাসী নেত্রী অমলী কিসকু, নারী নেত্রী রেহেনা বেগম, মাহেনুর আক্তার বৃষ্টি প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা নারী দিবসের ঐতিহাসিক গুরত্ব তুলে ধরে বলেন,  সমাজে নারীদের বিশেষকরে শ্রমজীবী নারীদের আত্মমর্যাদা ও সমঅধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আজও তারা সমাজে চরম বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার। তাঁরা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীর সামাজিক ও

অর্থনৈতিক অবদানকে স্বীকার করে না। অধিকন্তু সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার নারীর অগ্রগতির পথে চির বাঁধা হয়ে আছে। তাঁরা এ বাঁধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে নারীদের শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতি জোর দেন।

বক্তারা আরো বলেন, এত বাঁধা বিপত্তির পরও স্বাধীনতার পর হতে বাংলাদেশের নারীদের  অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য রয়েছে। কিন্তু অন্ধকারের এক শক্তি এ অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য আঁধা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। নারীদের তারা মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না।

নারী প্রতি তারা কুরুচিপূর্ণ কথা ছুড়ে দেয়। ‘ঘরের বাহিরে এসে নারীদের উপার্জন করা দরকার নেই’, ‘নারীর উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন নেই’, ‘নারী জেনা করে উপার্জন করে’ ইত্যাদী নোংরা উক্তি করে নারীদেরকে খাটো করতে একটি মহল পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

বক্তারা নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ কোভিড ১৯-এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানার শ্রমজীবী

নারীদের প্রতি মালিক পক্ষ যে অন্যায় আচরণ করছে তার তীব্র সমালোচনা করে কর্মচ্যূত নারীদের কাজে পূনর্বহাল, তাদের বেতন, ওভারটাইম, বকেয়া পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ করোনাকালে কৃষি উৎপাদনে নারী কৃষকদের বিশাল অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, নারী কৃষকদের ন্যায্য মজুরী, সমান কাজে সমান মজুরী প্রদান করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − three =