জেমসকে বিয়ে করাটাই ছিল আমা’র জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল

0
232

দুই সন্তান আবরার আলভী দানিশ ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে ঢাকার উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে থাকেন কানিজ রাবেয়া রথি। ছে’লে বড়, পড়াশোনা শেষে ভিডিও মেকিংয়ের কাজ করছেন, মে’য়ে মাইলস্টোন স্কুল থেকে এবার এসএসসি পাস করেছে। অ’ভিনয়জগতের সঙ্গে রথি নেই নয় বছরের বেশি সময়। তবে ফেসবুকে তার দেখা মেলে। কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে মডেলিং ও সিনেমায় কাজ করার সময়কার কিছু স্থিরচিত্র আপলোড করছেন।প্রসঙ্গটি মনে করিয়ে দিতেই রথি বললেন, ‘লকডাউনের এই সময়টায় কাজকর্ম সেরে হাতে সময় থাকে।ওই সময়ের কথা মনে পড়ে। ছবিগুলো পোস্ট করি, অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করি।’‘আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যান্ড তারকা জেমসের সঙ্গে প্রে’মের স’ম্পর্ক তৈরি হয় রথির। ‘অবুঝ দুটি মন’ মুক্তির বছর দুয়েক আগে, ১৯৯১ সালের ১৭ নভেম্বর তারা বিয়ে করেন। ইস্কাটনে কিছুদিন থাকার পর, বড় ছে’লে দানিশের জন্মের পর, ১৯৯৫ সালে উত্তরায় বসবাস শুরু করেন। ‘অবুঝ দুটি মন’ সে সময়ের বেশ আ’লোচিত সিনেমা। তারপর

অনেক পরিচালক ছবি বানাতে চেয়েছিলেন তাকে নিয়ে কিন্তু করেননি।নিজেকে একদম আড়াল করে নিয়েছিলেন। এরপর সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন,

‘পুরোপুরি নায়িকা হিসেবে যাত্রা বিয়ের পর। জেমস সরাসরি জানিয়ে দেয়, কোনোভাবেই সিনেমায় অ’ভিনয় করা যাবে না। আমিও ভাবলাম, সংসারে অশান্তি করে সিনেমায় অ’ভিনয়

করার কোনো অর্থ হয় না। সংসারটাই করি। জেমস চাইল, আমি যেন মাঝপথে শুটিং বন্ধ করে দিই। এ নিয়ে সংসারে খুব অশান্তি শুরু হলো। এসব নিয়ে প্রায় দিনই শুটিংয়ে যেতে

হতো। কোনোভাবেই পারছিলাম না।’ ‘অবুঝ দুটি মন’ ছবিটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছিল। সেখানেও ছিলেন না রথি। বললেন, ‘আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। কোনোমতে ছবির

ডাবিং শেষ করে বাসায় ঢুকে গেছি। এরপর আমি আর কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখিনি। চলচ্চিত্রের কেউ আমা’র কোনো খোঁজ পায়নি। কিন্তু যেই আমি সংসারের কারণে সিনেমা ছাড়লাম, ২০০৩ সালে সংসারটাও ভেঙে যায়। জেমস বেনজীরকে বিয়ে করে। আমাকে এক কাপড়ে উত্তরার বাসা থেকে বাবার বাড়িতে

চলে যেতে হয়।’ সংসার ভেঙে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিজের কাছে রেখে বড় করতে লাগলেন। বাবার ভূমিকা কেমন ছিল? রথি দাবি করেন, ‘একদম ছিল না। হঠাৎ হঠাৎ মন

চাইলে ফোন করত, এরপর আর কোনো যোগাযোগ নেই। অনেক আগে হাই–হ্যালো হতো, এখন তো তাও নেই। ঈদের মতো উৎসবে যেমন খবর নিত না, তেমনি ছে’লেমে’য়েদের জন্ম’দিন শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানাত না। অথচ আমি শুনেছি, ও সব জায়গায় বলে বেড়ায় সন্তানদের সবকিছু চালায়। এই করো’নায় সন্তানদের

একটিবার খোঁজ নেয়নি। মে’য়েটা কিছুদিন আগে এসএসসি পাস করেছে, ফলাফল বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে জানায়, এসএমএস দেখেছে, কিন্তু কোনো উত্তর দেয়নি। একটা উইশ

পর্যন্ত করেনি,’ বললেন রথি। রথি বললেন, ‘ওই মানুষটাকে বিয়ে করাটাই ছিল আমা’র জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত। ভুল মানুষকে পছন্দ করেছিলাম বলে আমা’র সন্তানদের এভাবে

বাঁচতে হচ্ছে। একটা সুন্দর সংসারের আশায় সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্রজগৎও ছেড়ে দিতে পিছপা হইনি। অথচ সেই মানুষটা আমাকে না জানিয়েই ২০০২ সালে আরেকটা বিয়ে করে।

আমি এত বছর দুই সন্তান নিয়ে ক’ষ্ট করেছি। জীবনের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। একবারের জন্যও কোনো দিন ওকে ফোন করে বলিনি, ছে’লেমে’য়ের এটা-ওটা দরকার। আমা’র পরিবারই আমা’র পাশে ছিল, তারা যদি পাশে না থাকত, আমাকে রাস্তায় নামতে হতো।’

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 2 =