পুরান ঢাকায় উচ্ছেদ করা জায়গা ফের দখলের পাঁয়তারা

0
208

পুরান ঢাকার নয়াবাজারে নওয়াব ইউসুফ মার্কেটের ভেতরে-বাইরে নকশা বহির্ভূত শতাধিক দোকান ছিল। তিন মাস আগে দোকানগুলো উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব ফাঁকা জায়গা নতুন করে দখলের পাঁয়তারা চলছে। ইতোমধ্যে মার্কেটের সামনের ফাঁকা জায়গায় সিএনজি ও পিকআপ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। সেখানে অবৈধভাবে টোল আদায় করছে একটি চক্র।

নওয়াব ইউসুফ মার্কেট বণিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, ডিএসসিসির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদের লোকজন এই স্ট্যান্ড তৈরি করে টোলের নামে চাঁদাবাজি করছেন। এছাড়া মার্কেটের ভেতর বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় দোকান বসানোরও চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে চলতে থাকলে মার্কেটটির পরিবেশ আগের মতোই নষ্ট হয়ে যাবে।

ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, নওয়াব ইউসুফ মার্কেটে চার শতাধিক বৈধ দোকান রয়েছে। এর বাইরে শতাধিক অবৈধ দোকান এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের অফিস ছিল মার্কেটের ভেতরে। এই নেতারাই এসব অবৈধ দোকানগুলো ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করেছেন। গত বছরের ২০ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ দোকান এবং অফিস গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এতে মার্কেটটির সৌন্দর্য বেড়েছে। এখন মার্কেটের কিছু সংস্কার কাজ করে আরও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা নিচ্ছে প্রকৌশল বিভাগ।

এদিকে, মার্কেটের ভেতরে-বাইরে ফাঁকা জায়গায় নিজ খরচে বাগান তথা গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নওয়াব ইউসুফ মার্কেট বণিক সমিতি। গত ২৩ নভেম্বর চিঠি দিয়ে এই পরিকল্পনার কথা ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে জানান তারা। কিন্তু জবাবে ডিএসসিসির এখনও বণিক সমিতিকে কিছুই জানায়নি। এরই মধ্যে মার্কেটের সামনের জায়গায় সিএনজি স্ট্যান্ড বসান মো. ফারুক নামে এক ব্যক্তি।

ফারুক নিজেকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তাকে কাউন্সিলর বলছেন, ওই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াব ইউসুফ মার্কেটের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে প্রায় চার শতক ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে ১৪টি সিএনজি, আটটি পিকআপ দাঁড়ানো। ঘণ্টাপ্রতি এসব সিএনজি থেকে ৩০ টাকা এবং পিকআপ থেকে ৪০ টাকা করে টোল আদায় করছেন ফারুক। কিন্তু তার কাছে টোলের রসিদ কিংবা টোল আদায়ে সিটি করপোরেশনের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

জানতে চাইলে ফারুক নিজেকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। কার অনুমতি নিয়ে টাল আদায় করছেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে তার দাবি, এই মার্কেটের সামনে সিএনজি, পিকআপ এলোমেলো করে পার্কিং করা হয়। এতে সড়কে যানজট লাগে। তাই তিনি শৃঙ্খলা করে পার্কিং করতে সহযোগিতা করেন।

নওয়াব ইউসুফ মার্কেট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী মোল্লা বলেন, মার্কেটের পরিবেশের স্বার্থে বণিক সমিতি বাগান করতে চেয়েছিল। কিন্তু একটি চক্র এই ফাঁকা জায়গা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মার্কেটের সামনে সিএনজি এবং পিকআপ পার্কিং তৈরি করে চাঁদাবাজি শুরু করে দিয়েছেন কাউন্সিলরের কর্মী ফারুক।

তবে ফারুক নামে কাউকে চিনেন না বলে দাবি করেছেন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু সাঈদ। তার দাবি, কে বা কারা এই মার্কেটের সামনে পার্কিং বসিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।

পাল্টা অভিযোগ করে এই কাউন্সিলর বলেন, মার্কেট বণিক সমিতির লোকজনই ফাঁকা জায়গায় দোকান বসাতে

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × four =